logo
news image

বাগাতিপাড়ায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্মার্ট খামারীর উদ্যোগ

২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠণের ঘোষনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ঘোষনার প্রতিফলন ঘটাতে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে স্মার্ট খামারী।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ‘স্মাট খামারী’ নামের এই উৎপাদনমূখী সমবায় সমিতি ইতোমধ্যে কৃষি ক্ষেত্রে এবং গরুর খামার তৈরিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রামীন প্রত্যেক পরিবারে কমপক্ষে একটি গরু পালনের লক্ষ্যে কিস্তি বিহীন স্বল্প সার্ভিস চার্জে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। গরুর খামার ও কৃষি কাজে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে একই সুবিধা প্রদান করছে এই স্মাট খামারী।

সমিতির ব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম এপ্রিল জানান, প্রায় এক বছর ধরে তারা ছোট পরিসরে পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা আসার পর থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠণে অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে কৃষি ও গরু লালন পালনে প্রত্যেক পরিবারকে উৎসাহিত করতে উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে একজন কৃষক জমিতে আবাদের জন্য চারমাসের জন্য আর্থিক ঋণ সহায়তা পাবেন। তবে এই ঋণ বিনাসুদে কিস্তি বিহীন স্বল্প সার্ভিস চার্জে প্রদান করা হয়। ফসল উত্তোলনের পর তা বিক্রি করে ঋণের সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে কোন কারনে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হলে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে না।

একইভাবে প্রত্যেক পরিবারে যাতে অন্তত: একটি গরু পালন করে সেই লক্ষ্যে একই পদ্ধতিতে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের নারীরাও এতে অন্তর্ভূক্ত হতে পারছেন। তাছাড়াও গরু মোটাতাজা করন খামার তৈরিতেও সহায়তা দিচ্ছে স্মার্ট খামারী। শুধু ঋণেই সীমাবদ্ধ না রেখে ফসল চাষের পর কম মূল্যে সার-কীটনাশক ক্রয়ে সহায়তা, রোগ-বালাই দমনে পরামর্শ প্রদান এবং গরুর ফিডিং, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় বিষয় দেখভাল করছে স্মার্ট খামারী। এর ফলে বিনা পূঁজিতে গরু পালন ও ফসল চাষ করতে পারছেন কৃষকরা।

সম্প্রতি এর সাথে হাঁস-মুরগি পালন ও মৎস্য চাষও এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলায় ২৫০ জন কৃষক-কৃষাণী এর আওতাভুক্ত হয়েছেন। আগ্রহী হওয়ায় ক্রমেই এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্মার্ট খামারী থেকে ঋণ সহায়তা নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া মাসুদ রানা বলেন, বিনা পূঁজিতে স্মার্ট খামারীর সহায়তা নিয়ে তিনি গরু লালন-পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

কৃষক খালেদ মাহমুদ বলেন, স্মার্ট খামারী থেকে চার মাসের জন্য ঋণ নিয়ে তিনি গমের আবাদ করেছিলেন। গম উত্তোলনের পর তা বিক্রি করে সামান্য সার্ভিস চার্জসহ তাদের ঋণের টাকা ফেরত দিয়েছেন। এই সুবিধা পেয়ে তার গমের ভালমতো যতœ নিতে পেরেছেন, ফলে গমের ফলন ভালো হয়েছে। আবারও তিনি পাট ফসলের জন্য নতুন ঋণ গ্রহন করেছেন।

এব্যাপারে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ইবনে জামান মো. তিতাস কবীর বলেন, স্মার্ট খামারী নামে সমবায় সমিতি সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। উৎপাদনমূখী এই সমিতি সমন্বিত ফসল উৎপাদনে এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে সহায়তা দিচ্ছেন। স্মার্ট খামারী তার দপ্তরে নিবন্ধনের জন্যও আবেদন করেছে, বিষয়টি তার বিবেচনায় রয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top