logo
news image

শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় আসবে ইনশাআল্লাহ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াবে। সে স্বপ্ন পূরণে তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় আসবে ইনশাআল্লাহ।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর ২০২২) নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের (নবেসুমি) ৯০তম আখ মাড়াই মৌসুম ২০২২-২০২৩ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল আজম।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের শিল্পায়নে চিনিশিল্পের অভিযাত্রা এক সূত্রে গাঁথা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন আনোয়ারুল আজিম ১৮ দিন মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। নর্থ বেঙ্গল চিনিকলটি ১৯৩৩ সালে ব্যক্তি মালকিানায় স্থাপতি হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদশ সরকার এই প্রতষ্ঠিানটিকে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ঘোষণা করে। এই বৃহদায়তন শিল্প-কমপ্লেক্সটি চিনি কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও জৈব সারকারখানা এবং অফিস ও আবাসন ভবনের সমন্বয়ে গঠিত। এই মিলের দৈনিক আখ মাড়াই করার ক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদনের ক্ষমতা ১৭ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন। আখের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি ভবিষ্যতেও পর্যায়ক্রমে পুনঃনির্ধারণ করা হবে বলে বিবেচনাধীন আছে।
তিনি বলেন, ‘নর্থ বেঙ্গল চিনিকল আধুনিকীকরণ ও উৎপাদন বহুমুখীকরণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’  প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে সফলভাবে সমাপ্ত হলে পরবর্তীতে মূল প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। একটি সুখি, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ চলায় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন দেশের সকল আখ চাষি এবং চিনি শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
চিনিকল এলাকা সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব করার নিমিত্ত ১৪ টি চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধণাগার (ইটিপি) স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সৌদি আরবের অর্থায়নে বিএসএফআইসি’র উদ্যোগে চিনিকল এলাকায় একটি আখভিত্তিক নতুন চিনিকল কমপ্লেক্স, বায়ো ইথানল প্ল্যান্ট, নন-এলকোহলিক বেভারেজ প্ল্যান্ট, এগ্রো প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, চিনি শিল্পকে লাভজনক করতে চিনিকলে কর্মরত অতিরিক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা কমানো হবে, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। সরকার কৃষি যান্ত্রিকিকরণের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে চিনি শিল্প লাভজনক পর্যায়ে যাবে।
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল আজম বলেন, চলতি রোপন মৌসুমে চাষিদের উৎসাহিত করে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আখ রোপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিলের নিজস্ব খামারগুলো লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। কারখানার যন্ত্রাংশ মেরামতে ২০ লাখ টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে। মিল এলাকার প্রায় ১৮ হাজার আখচাষি সাতটি সাবজোনের মাধ্যমে ৩২টি কেন্দ্রে ও মিলগেটে আখ সরবরাহ করেন। এ বছর ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আখের মূল্য পরিশোধ করা হবে। চাষিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে মিলটি লাভের মুখ দেখবে ইনশাআল্লাহ।
বক্তব্য রাখেন আখচাষী ইব্রাহিম খলিল, আনসার আলী দুলাল, সুকুমার রায় এবং শ্রমিক নেতা খন্দকার শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। তাঁরা বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও প্রায় মাস দেরিতে মাড়াই শুরু করায় রবিশস্য আবাদের জন্য জমি তৈরির জন্য চাষিরা অবৈধ ক্রাশারে আখ দিতে বাধ্য হয়েছেন। আখের ক্রয় মূল্য ১৪০ থেকে বৃদ্ধি করে ১৮০ টাকা মণ নির্ধারণ, যথাসময়ে আখের মূল্য পরিশোধ, গুণগতমানের সার সরবরাহ করায় ধন্যবাদ জানিয়ে চিনিকলের উৎপাদন কার্যক্রমকে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দাবী জানান কৃষক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
চিনিকল সূত্রে জানা যায়, এ বছর মিলের নিজস্ব ৫৭৫ একরসহ প্রায় ১৮ হাজার ১০০ একর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৩৭ কর্মদিবসের লক্ষ্যমাত্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৫ হাজার ৩৩০ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে শতকরা ৭ ভাগ। গত মৌসুমে লোকসান হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। মিল এলাকায় প্রতিদিন ১৫৭টি অবৈধ পাওয়ার ক্রাশারে ৬২৮ মেট্রিক টন আখ মাড়াই হচ্ছে। যার ফলে মিলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা রয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top