logo
news image

বৃষ্টি প্রার্থনায় পানিমাঙা দল

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
‘‘আল্লাহ মেঘ দে; পানি দে, ছায়া দে রে তুই, আল্লাহ মেঘ দে। আসমান হইল টুডা টুডা, জমিন হইল ফাডা। মেঘ রাজা ঘুমায়া রইছে, মেঘ দিব কন কেডা। ফাইট্টা ফাইট্টা রইছি যত, খালা বিলা নদী। পানির লাইগ্যা কাইন্দা ফিরে পঙ্খি জলদি। হালের গরু বাইন্দা, গিরস্ত মরে কাইন্দা। খাওয়ার পানে ফডো ফডো, নারীনাংটী গরে। কপোত কপোতি কান্দে, খোপে তে বসিয়া। শুকনা ফুলের কলি পড়ে, ঝরিয়া ঝরিয়া...”।
কিছুদিন আগেও অনাবৃষ্টি, তাপদাহ আর প্রচন্ড গরমে মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়লে গ্রামের মানুষ এ ধরণের গান গেয়ে পানিমাঙতে দেখা গেছে। আবার প্রখর রোদে পদ্মা নদীর ধু ধু বালু চরে বিশেষ নামাজ ও দু’হাত তুলে আল্লাহতায়ালার দরবারে দীর্ঘ মোনাজাতের মাধ্যমে পানিমেঙ্গেছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। শীতল মেঘের ছায়া, একটু বৃষ্টির ধারা, ঠান্ডা হাওয়ায় বুকভরা শ্বাস-প্রশ্বাসে স্বস্তির প্রত্যাশা করে। আজকাল সচারচার এ ধরণের পানিমাঙা চোখে পড়ে না।
শনিবার (১৬ জুলাই ২০২২) নাটোরের লালপুরের রঘুনাথপুর গ্রামে পানিমাঙা কিশোর দলের দেখা মেলে।
কিশোর দল জানায়, সকালে ‘পানিমাঙা’ একটি দল বের হয়েছে। বাড়ির কর্তী কলসিভর্তি পানি এনে উঠানে ঢেলে দেন। কিশোর দল সেই পানিতে ভেজা জায়গায় গড়াগড়ি খেতে থাকে। এ সময় গেরস্ত বৌ-ঝি’রা যে যার সাধ্যমতো খিচুড়ি রান্নার উপকরণ চাল, ডাল, পিঁয়াজ, রসুন, টাকা, তুলে দেন। একের পর এক এভাবে গ্রামের প্রায় সব উঠানে গান করে, নেচে-গেয়ে কাদায় মাখামাখি হয়ে তারা বাড়ি ফেরে। বিকেল এক বাড়ির উঠানে চাল-ডাল, পিঁয়াজ-রসুন তেল নিয়ে শুরু হয় খিচুড়ি রান্না। দলবেঁধে গ্রামের সব ছেলেমেয়ে তো বটেই আশপাশের গ্রামের ছেলেমেয়েরা এমনকি বড়রাও আসে সেই খিচুড়ি খেতে।
‘পানিমাঙা’ দলের প্রার্থনায় কখনও কখনও বৃষ্টি নামে, আবার কখনও নামে না। গ্রামের কিশোর বয়সী ছেলে-মেয়ে ও ঘরের বৌ-ঝিদের বিনোদন ভালোই হয়।
ঢাকা বেতারের শিল্পী ও নাট্য ব্যক্তিত্ব শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘পানিমাঙা’ মানুষ এখনো বিশ্বাস করে- আল্লাহ তায়ালার কাছে এভাবে পানির জন্য মিনতি জানালে বৃষ্টি হবে। এই বিশ্বাস নিয়েই গ্রামের মানুষ একে অপরের সাথে মিলেমিশে বসবাস করে।
রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মো. আমিরুল ইসলাম (৭৮) বলেন, এক সময় পদ্মার চরে প্রচন্ড তাপে নামাজ আদায় করে পানির জন্য দোয়া করতেন। পানি না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফেরেননি। এখন আর এমন হয় না।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top