logo
news image

মানিক জোড়দের আর একসঙ্গে দেখা যাবে না

লারপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
‘আরিফুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান। চাচাত ভাই হলেও বন্ধুত্বের সম্পর্কটার প্রাধান্য পেয়েছে। ছোট বেলা থেকেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন। ‘মানিক জোড়’ হিসেবে পরিচিতি তাঁদের। জীবনের ৩৬ বছর একে অপরের সাথে অতপ্রোতভাবে জড়িত। গ্রামে এক সাথে জন্ম, এই বাড়িতে বেড়ে ওঠা, শেষ পর্যন্ত মৃত্যুটাও হলো একই সাথে। সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাদের প্রাণ।’ ছেলের নিথর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছার পর আহাজারি করে বলছিলেন নিহত হাফিজুর রহমানের বাবা হায়দার আলী।
নাটোরের লালপুরের আড়বাব ইউনিয়নের কেশভবাড়িয়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান ও সেকেন্দার আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম। পড়ালেখা শেষে হাফিজুর গাজীপুরে আরএফএল কোম্পানিতে আর আরিফুল ঢাকায় এরিস্ট্রোফার্মাতে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে শুক্রবার সকালে আরিফুল গাজীপুরে এসে হাফিজুরকে নিয়ে একই মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-মির্জাপুর মহাসড়কের মির্জাপুরের জামুর্কী নামক স্থানে পৌঁছালে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ঢুকে পড়ে। এতে মোটরসাইকেলের চালক হাফিজুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত অবস্থায় আরিফুলকে উদ্ধার করে উপজেলার জামুর্কী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
শনিবার (৯ জুলাই ২০২২) নিহতদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছলে শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। বেলা ১১টায় সালামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। জানাজায় কেশভবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ অংশ নেন।
আরিফুলের ভাই শরিফুল ইসলাম বলেন, হাফিজুরের সাত বছরের একটি ছেলে ও আরিফুলের সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে আছে। ছোট থেকে তাঁরা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। একই বাড়িতে তাঁদের জন্ম, বেড়ে ওঠা। শেষ যাওয়াও হলো একসঙ্গে। একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানি করার ইচ্ছে ছিল, তা আর হলো না।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top