logo
news image

পায়ে হেঁটে ৪ মাসের চিল্লায় ৭ পাগল দল

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
পড়ন্ত বিকেল। সূর্যের লাল আভা নিভু নিভু। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। ক্লান্ত-শ্রান্ত সাত পাগলের একটি কাফেলা দ্রুত পায়ে এগোচ্ছে। দলনেতা বাবু শাহ পাগলা বাবা (৩৪) হুইল চেয়ারে বাসে আছেন। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় তাঁর বাড়ি। তাঁকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন শেরপুর উপজেলার আব্দুল হালিম ওরফে ভোদাই পাগলা। সামনে যে মাজার পাওয়া যায় সেখানে রাত্রিযাপন করতে হবে।
শনিবার (২২ জানুয়ারি ২০২২) নাটোরের লালপুরের গৌরীপুরে দেখা মেলে তাঁদের। জাতীয় পতাকার সাথে লাল পতাকা হাতে হেঁটে চলেছেন। ছবি তুলতেই দাঁড়িয়ে যায় কাফেলা। কথা হয় তাঁদের সাথে।
আব্দুল হালিম ওরফে ভোদাই পাগলা (৫৬) বলেন, পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুণ্ড্রনগর অর্থাৎ বগুড়ার মহাস্থানগড়ের হযরত শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) মাজার থেকে পায়ে হেঁটে ৪ মাসের চিল্লায় সাতজনের পাগল এই দল বেরিয়েছেন ১৯দিন হলো। খুলনার বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (র.) এর মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। পথিমধ্যে সবগুলো মাজার জিয়ারত করতে করতে সেখানে পৌঁছাবেন। রাজশাহীর বাঘার হযরত শাহদৌলা (র.) মাজার থেকে রওনা হয়ে ভেড়ামারার সোলেমান শাহ (র.) মাজারে রাত্রিযাপন করবেন।
দলের একমাত্র নারী আমেনা পাগলী (৬২) বলেন, সারাদিন তাঁরা পথ চলেন। পথে কোন মাজার পেলে একটু বিশ্রাম নেন। রাতে মাজারে বিছানাপত্র বিছিয়ে ঘুমিয়ে সকাল হলেই হাঁটা দেন। খাওয়া-দাওয়া মাজারেই করে নেন। তাঁদের দলে আরো রয়েছেন, শেরপুরের জহর মিয়া পাগলা (৬৪), কুড়িগ্রামের আমির হোসেন পাগলা (৬১), সাবেদ আলী পাগলা (৫৯) ও ধুনটের শফিকুল ইসলাম পাগলা (৩৩)।
তাঁরা বলেন, দলনেতা বাবু শাহ পাগলা হাত-পা ব্যবহার করেন না। দুই হাতের নোখ বাড়তে বাড়তে পেঁচিয়ে গেছে। ভক্তরা তাঁর সেবা করেন। খাওয়ে দেন। এটাই তাঁদের নিয়ম।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top