logo
news image

সমতলে কাজুবাদাম ও কফি চাষ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুরে পরীক্ষামূলকভাবে সমতলে কাজুবাদাম ও কফি চাষ শুরু করেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
বুধবার (১৯ জানুয়ারি ২০২২) উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কাজুবাদাম ও কফি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে ‘কাজুবাদাম জাত ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী’ হিসেবে ২০২১ সালে অক্টোবর মাসে কাজুবাদাম চাষে ৫০ শতক জমিতে পাঁচজন ও কফি চাষে ৩৩ শতক জমিতে পাঁচজন কৃষককে সহায়তা দেয় কৃষি বিভাগ। কাজুবাদাম চাষী উপজেলার লালপুরের মোখলেসুর রহমান, ভবানীপুর-চাঁদপুরের সাইদুর রহমান, পালিদেহার তারেক মাহমুদ, কেশবপুরের মাজহারুল ইসলাম লিটন ও ডহরশৈলার আবুল কাশেম। কফি চাষী উপজেলার মনিহারপুর গ্রামের আনিসুর রহমান, ওয়ালিয়া মধ্যপাড়ার হাসান ইমাম, ভবানীপুরের রিমা খাতুন, টিটিয়ার শামীমুল ইসলাম ও দাঁইড়পাড়ার আবু সাইদ।
গত ১৭ জানুয়ারি ২০২২ উপজেলার কেশবপুর গ্রামে মাজহারুল ইসলাম লিটনের ‘কাজুবাদাম জাত ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী’ ক্ষেত পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কাজুবাদাম ও কফি গবেষনা উন্নয়ন ও সম্প্রসারন প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেজাউল করিম রতন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।
কেশবপুর গ্রামের কাজুবাদাম চাষী মাজহারুল ইসলাম লিটন বলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাঁর জমিতে রোপনের জন্য এম-২৩ জাতের কাজুবাদামের চারা প্রদান করে। গত বছর ১৩ অক্টোবর ‘কাজুবাদাম জাত ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী’ হিসেবে তিনি ৫০ শতক জমিতে ৮০টি চারা/কলম রোপন করে চাষ শুরু করেন।
ভবানীপুর গ্রামের কফি চাষী রিমা খাতুন বলেন, পরীক্ষামূলক কফি চাষ করতে পেয়ে আনন্দিত। ফলন ও লাভজনক হলে আরও বেশি জমিতে চাষ করবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কাজুবাদাম ও কফি গবেষনা উন্নয়ন ও সম্প্রসারন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কাজুবাদাম চাষে কৃষকদের বিনামূল্যে চারা, উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতিগত সহায়তা প্রদান করছে।
বাংলাদেশ কাজুবাদাম ও কফি গবেষনা উন্নয়ন ও সম্প্রসারন প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা
কৃষিবিদ রেজাউল করিম রতন বলেন, বর্তমানে বান্দরবানসহ পাহাড়ি এলাকায় কাজুবাদাম ও কফি চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অপ্রতুল হওয়ায় সমতলে কাজুবাদাম ও কফি চাষ সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লালপুরের আবহাওয়া চাষের উপযোগি হওয়ায় উপজেলার কৃষদের কাজুবাদাম ও কফি চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাপক হারে চাষ বৃদ্ধি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। এ লক্ষ্যে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ২১১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top