logo
news image

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উল্লাস

ইমাম হাসান মুক্তি, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুরের ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের  প্রায় দেড় বছর পর প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের আনন্দ মেতে উঠেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরায় খুশির আমেজ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত প্রতিষ্ঠান প্রাণ ফিরে পেয়েছে ৫৫৪ দিন পর।
সরেজমিন রোববার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২১) দেখা যায়, উপজেলার একমাত্র প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে আসছেন। এক উৎসব মুখর আনন্দময় পরিবেশ বিরাজ করছে। সারিবদ্ধভাবে নন-মেডিকেল থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপ করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হাত ধুয়ে প্রবেশের পর ফুল, মাস্ক, চকলেট দিয়ে বরণ এবং সকলকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন বিদ্যালয় কমিটির সদস্য ও প্রধান শিক্ষক। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনাতামূলক আলোচনা করেন।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বলে, স্কুলে এসে বন্ধুদের সাথে খেলতে খুব আনন্দ হচ্ছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাকিবুল বলে, এত দিন পর স্কুলে আসায় খুব ভাল লাগছে।
বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বায়েজিদের মা বিজলী বেগম বলেন, দেড় বছর বাড়িতে থাকতে খুব জালাতো। স্কুলে আসলে অনেক ভাল থাকে।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সুমিতার বাবা রাজ্জাক আলী বলেন, দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকায় মেয়েটা মনমরা ছিল। দেখেন আজ কীভাবে উল্লাস করছে।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ইসমাই হোসেন ভান্ডারী বলেন, অনেক দিন পর স্কুল খুলে দেওয়ার সবার মধ্যে ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে। উৎসবের আমেজে আমরা মিষ্টিমুখের আয়োজন করেছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিমানুর রহমান বলেন, এই বিদ্যালয়ে ১২ রকমের অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। মোট ২৯১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫০ জন ছাত্র ও ১৪১ জন ছাত্রী। এদের ছাড়া আমাদের ভাল লাগে না। তাই দীর্ঘ দিন পর সন্তানদের কাছে পেয়ে খুব ভাল লাগছে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, উপজেলায় একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ছাড়াও ১১২টি প্রাথমিক, ৫৬টি মাধ্যমিক, ১০টি কলেজ, ২৩টি মাদ্রাসা, ২টি কারিগরি বিদ্যালয় ও ৫টি কারিগরি কলেজ রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করছেন। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সীমিত পাঠ্যসূচি কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top