logo
news image

লালপুরে বিজ্ঞানী ওমর আলীকে সংবর্ধনা

প্রতিনিধি, লালপুর (নাটোর)
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী ড. মোঃ ওমর আলীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৪’ প্রদান করা হয়।
নাটোরের লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শুক্রবার (২০ আগস্ট ২০২১) সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মোত্তালেব রায়হানের সভাপতিত্বে ও মোয়াজ্জেম হোসেনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাম্মী আক্তার, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা উমিরুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের সদস্য ও সুধীবৃন্দ।
নাটোরের লালপুর উপজেলার মনিহারপুর গ্রামে ১৯৬৫ সালের ১২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন গবেষক ও বিজ্ঞানী এবং কবি ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত  গীতিকার। পিতা মরহুম ইয়াছিন আলী মন্ডল ও মাতা মোসা. শামসুন্নাহার বেগম। স্ত্রী মোছা. মোমেনা খাতুন। তাঁদের দুই সন্তান- সাদমান বিন ওমর সৈকত ও মোকতাদীর মাহদী বিন ওমর শাফী।
তিনি ভেল্লাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে পঞ্চম শ্রেণি, দাদপুর গড়গড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে এসএসসি (বিজ্ঞান), পাবনা এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এইচএসসি (বিজ্ঞান), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি পঞ্চম  ও অসটম শ্রেণিতে বৃত্তি প্রাপ্ত হন।  তিনি শিক্ষার সকল স্তরেই প্রথম বিভাগ/শ্রেণি প্রাপ্ত হন। তিনি ২০১১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকারডা, সিরিয়া-এর যৌথ গবেষণার মাধ্যমে কৃষিতত্ত্ব  বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ১৯৯২ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বগুড়ায় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিতত্ত্ব) হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। যোগদানের শুরু থেকে ২০০৫ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ১২ বছর ৯ মাস বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিতত্ত্ব), সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বগুড়া এবং ডাল গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), ঈশ্বরদী,  পাবনায় কর্মরত ছিলেন।
২০০৫ সালের ৩১ মে থেকে ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭ বছর ২ মাস উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিতত্ত্ব), ডাল গবেষণা কেন্দ্র, ঈশ্বরদী, পাবনা এবং ডাল গবেষণা উপকেন্দ্র, বারি, গাজীপুর কর্মরত ছিলেন।
২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১৮ মে পর্যন্ত ৭ বছর ৮ মাস প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিতত্ত্ব),  ডাল গবেষণা  উপ-কেন্দ্র  বারি, গাজীপুর কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালের ১৯ মে থেকে তিনি ডাল গবেষণা উপ-কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), গাজীপুর  মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয়  প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।
‘সোনালী মাঠ’ ও ‘জীবন নদী’ নামে তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে  তিনি আরো একটি কাব্য গ্রন্থ-‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ করতে চলেছেন। এছাড়াও দেশী-বিদেশী পত্র-পত্রিকা, জার্নালে ১৯০ টি লেখা ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের  একজন তালিকাভূক্ত গীতিকার হিসেবে তাঁর রচিত আট’শরও বেশি গান রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশে মসুর ডাল গবেষণার উন্নয়নে  মূল্যবান অবদানের জন্য বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর কৃতিত্ব পুরষ্কার, বারি, বাংলাদেশ ও ইকার্ডা, সিরিয়া-এর ফ্রেন্ডশীপ ডে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ এবং ছোলার ডাল গবেষণায় উন্নয়নে অবদানের জন্য সিজিআইআর-এর কিং বাউদউইন পুরষ্কার, ২০০২ এবং ইকরিসাট, ইন্ডিয়া-এর ডোরেন মাশলার অ্যাওয়ার্ড, ২০০২  দলীয় সদস্য হিসেবে বারি, বাংলাদেশ ও ইকরিসাট, ইন্ডিয়া-এর ফ্রেন্ডশীপ ডে ১৬ জানুয়ারি ২০০২ সালের সম্মাননা অর্জন করেন।
তিনি সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষিতত্ত্ব সমিতি (২০১৯-২০২২, দুই মেয়াদ); জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিজ্ঞানী সমিতি (২০১৯ থেকে চলমান); দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিজ্ঞানী সমিতি (২০১৭-২০১৮); সদস্য সচিব, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, পাবনা (২০০৯-২০১৫); সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত), বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন, পাবনা (২০০৬-২০০৭); সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন, পাবনা (২০০৬-২০০৭ ); সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন, পাবনা (২০০৪-২০০৫); সদস্য, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ (২০০৬); সদস্য, কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন বাংলাদেশ, বগুড়া (১৯৯৩-১৯৯৪); আজীবন সদস্য, কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন বাংলাদেশ (১৯৯৩); আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ কৃষিতত্ত্ব সমিতি (১৯৯৫); সদস্য, বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতি (১৯৯৩)।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top