logo
news image

বিলমাড়িয়া হাট গণহত্যা দিবস

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)
১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই মঙ্গলবার (১০ শ্রাবণ)। বিলমাড়িয়া হাট ঘেরাও করে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। পর পর দুই দিনে ৭০ থেকে ৮০ জনকে হত্যা করা হয়।
বিলমাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রত্যক্ষদর্শী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বিলমাড়ীয়া হাটের দিন। আশেপাশের গ্রামের মানুষ ছাড়াও কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়া ও দৌলতপুর থেকে মানুষ হাটে আসেন। হঠাৎ পাকিস্তানি সেনারা হাট ঘেরাও করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০/৫০ জন মানুষকে আটক করে বটগাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের পর ব্রাস ফায়ার করে হত্যা করে। তারা হাট লুট করে দোকানপাট ও কৃষক-ব্যবসায়ীদের পাটে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরের দিন ২১ টি মৃতদেহ শনাক্ত করে দাফন করে। বাঁকিদের দেহ খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকে। কিছু মৃতদেহ নদীর স্রোতে ভেসে যায়।
পরের দিন বুধবার ২৮ জুলাই দুপুরে বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে এনে ৯ জনকে শিমুল গাছের সাথে বেঁধে অত্যাচারের পর গুলি করে হত্যা করে। রাস্তার পাশের ঘর-বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে শকুন, শেয়াল ও কুকুরের খাবারের পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শহীদদের শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ও মাথার খুলি একত্র করে বটগাছের পাশে গণকবর দেওয়া হয়। ওই বট গাছের স্থানে বিলমাড়িয়া জামে মসজিদ ও নির্মিত হয়েছে শহীদ স্মৃতিসৌধ।
গণহত্যায় শহীদের কয়েক জনের নাম- বাথানবাড়ীয়ার ফজু মিয়া, জামির পাগলা, ছইর উদ্দিন, খলিলুর রহমান, জমির আলী, নিতু, ইসমাইল মোল্লা, ছাদের আলী, ছাত্তার মন্ডল, জামের আলী, আকছেদ আলী, আব্দুল গণি, জামশেদ আলী, আব্দুল খালেক, ফজলু থান্দার ও আজাহার আলী। চকবাদকয়ার ছাদেক আলী ও সাদেক সোনারু। মোহরকয়ার মজিবর রহমান, ইসহাক, আবীর আলী, মোসলেম উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, মোয়াজ্জেম হোসেন, সিরাজ প্রামাণিক, নুরুন্নবী, জব্বার খাঁ, সোহরাব হোসেন, হরি নারায়ণ ও ইউসুফ আলী। বিলমাড়ীয়ার ইসমাইল হোসেন শেখ, তাজ আলী ও ইদু শাহ। বালির দাঁইড় গ্রামের ফেলু শাহ। ফতেপুরের টেলু মিয়া।  মহারাজপুরের বাহার উদ্দিন সরকার ও ইসমাইল হোসেন। নাগশোষার মকছেদ আলী, উকিল শাহ্, নজের আলী, গরিবুল্লা, মজিবর রহমান, গোবরা মিয়া, আমীর হোসেন, বাহার উদ্দিন ও ফকির শাহ এবং বালিতিতার মেয়াদ আলী মন্ডল।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top