logo
news image

লালপুরে বেড়িবাঁধ হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)
নাটোরের লালপুরের ঈশ্বরদী ইউনিয়নে গৌরীপুর দক্ষিণপাড়া পদ্মা নদীর পাড় ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রায় আড়াই কিলো মিটারের বেড়িবাঁধ। নদীর বুকে জেগে উঠেছে ধূসর বালির চর। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দেখা যায় না বলেই চলে। বেড়িবাঁধে দাঁড়িয়ে এক মুহুর্তের জন্য মনে হতে পারে এ যেন বালির মরুভূমি। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্য মনেকে সহজেই পুলকিত করে।
বেড়িবাঁধের একটি অংশ আড়াই কিলো মিটার পড়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। বেড়িবাঁধের সামনে রয়েছে পদ্মা নদী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, পাবনার ঈশ্বরদী ও সুজানগর এবং নাটোর জেলার লালপুরে পদ্মার বিস্তীর্ণ চর।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পদ্মার চর ও লালপুর বেড়িবাঁধ হয়ে উঠতে পারে পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র। লালপুর বেড়িবাঁধ ও পদ্মার এই চর-এলাকায় পর্যটক আকর্ষণের মতো সবকিছুই রয়েছে। রয়েছে পদ্মার স্বচ্ছ পানি, বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তীর্ণ বালির চর ও আড়াই কিলো মিটার দীর্ঘ পদ্মার বেড়িবাঁধ। এছাড়া মাঝে মধ্যে দেখা মিলতে পারে ধূলিঝড়ের; এমনটা সব সময় মরুভূমির দেশগুলোতেই হয়ে বলে সবাই জানে। এটি সহজেই পর্যটক আকর্ষণের উপাদান হতে পারে।
ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে লালপুর বেড়িবাঁধ এলাকা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি পেয়ে গেছে। ছুটির দিনগুলো ছাড়া দুই ঈদে স্থানীয় লোকজন ও দেশি পর্যটকদের সমাগম ঘটে। কিন্তু থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা ও প্রচার প্রচারণা না থাকায় দেশের প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এখনো স্থানটি অজানাই রয়ে গেছে।
সোমবার (২৪ মে ২০২১) স্থানীয় গৌরীপুর দক্ষিণপাড়া (আকছেদ মোড়) এলাকার মসলেম উদ্দিন খাঁ (৬২) জানান, লালপুরে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা তেমন একটা নেই। তাছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকলেও পর্যাপ্ত পরিবহন-সুবিধা নেই। এই কারণে পর্যটকদের কাছে আগ্রহ পাচ্ছে না লালপুর বেড়িবাঁধ ও পদ্মার চর-এলাকা। প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা গেলে দেশের যে কোনো পর্যটনকেন্দ্রের মতো জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে লালপুর বেড়িবাঁধ ও পদ্মার চর।
স্থানীয় বাসিন্দা দোকান মালিক শওকত আলী ওরফে সৈয়দ (৩৫) বলেন, প্রতিদিনই পাবনা এবং নাটোর থেকে বিভিন্ন শ্রেণির পর্যটকরা বেড়াতে আসনে এই এলাকায়। ভ্রমণপ্রেমীরা পরিবেশ পেলে একটি আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখার সুযোগ পেতো, তেমনি এলাকাবাসীরও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতো।
তিনি আরো বলেন, বছর ছয়েক আগে পদ্মার তীরবর্তী ভাঙ্গন রোধে ব্লক বসানো হয়। নদী ভাঙ্গনে আকছেদ মোড়ে ৮০ মিটার এবং নুরল্লাপুরে নতুন বাঁধ এলাকায় ১৫০ মিটার এলাকা জুড়ে তীর রক্ষা ব্লক ধ্বসে গেছে। এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটান তীরবর্তী মানুষেরা।
আশেপাশের এলাকায় তেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে গড়া ওঠা পর্যটনকেন্দ্র না থাকায় এই এলাকাটি সহজেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top