logo
news image

আগুনলাল কৃষ্ণচূড়ায় সেজেছে লালপুরের প্রকৃতি

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)
বাংলাদেশের প্রকৃতিতে গ্রীষ্মকালের বাহার কৃষ্ণচূড়া ফুল। যেমন শিমুল মানেই বসন্ত। রাস্তার মোড়ে মোড়ে কৃষ্ণচূড়ার মনকাড়া গাছ। সবুজ চিকন পাতার ফাঁকে আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুল। যেন চোখ জুড়িয়ে যায় আর আনন্দে মন নেচে ওঠে।
কৃষ্ণচূড়ার ফাঁক গলিয়ে যদি ঘুঘু-শালিক ওড়াউড়ি করে। বৈশাখের কৃষ্ণচূড়ার পাতা-ফুল, কালবৈশাখী মেঘ ও চঞ্চল ঘুঘু মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। দৃশ্যটিই মনে হবে স্বপ্নের মতো।
সোমবার (৩ মে ২০২১) সরেজমিন দেখা যায়, নাটোরের লালপুর উপজেলা জুড়ে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া। প্রায় সব জায়গাতেই কমবেশি গাছ দেখা যায়। ফুলের সমারোহ মনকে আবেগী করে তোলে। দৃষ্টিনন্দন ফুল সবচেয়ে বেশি মন কাড়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কৃষ্ণচূড়ার গাছগুলো। ফুলের লাল পাপড়ি বিছানো গাছতলা যেন লালগালিচা সংবর্ধনা জানাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাজদার রহমান (৬৫) জানান, কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্যে মন ভাল হয়ে গেছে। শরীরের অসুখ মনে হয় দূর হয়ে গেছে। প্রকৃতি মানুষের বড় বন্ধু সেটা বুঝতে পারছি।
হাসপাতালের প্রবীণ কর্মচারী আব্দুর রশিদ জানান, সৌন্দর্য প্রিয় ডা. মো. মুজিবুর রহমানের সময় হাসপাতালে কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ লাগানো হয়। সে অনুযায়ী গাছগুলো বয়স প্রায় ৪৫ বছর।
সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (সিভিল সার্জন হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত) ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, তিন মেয়াদে লালপুর হাসপাতালে প্রায় ১৫ বছর কর্মরত ছিলেন। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় রোপিত ছোট গাছগুলো অনেক বড় হয়ে গেছে। কোন সময় লালপুরে আসলে এখানকার প্রকৃতি আর মানুষগুলো আবেগী করে তোলে। লাল টুকটুকে কৃষ্ণচূড়া ফুলগাছগুলো যেন আমাকে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে অপেক্ষা করছে। আমার ভাল লাগে গাছগুলো মানুষকে প্রকৃতির ছোঁয়া দেয়। হৃদয়ে ভালবাসার অনুভূতি যোগায়।
কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ যা গুলমোহর নামেও পরিচিত।
কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি জন্মানো সম্ভব হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপী ছড়ায়। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ।
কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং উজ্জ্বল লাল। পত্র ঝরা বৃক্ষ, শীতে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। বাংলাদেশে বসন্তকালে এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মত লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচুড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট।
কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে এটি জন্মে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণচূড়া শুধু মাত্র দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ পশ্চিম ফ্লোরিডা, টেক্সাসের রিও গ্রান্ড উপত্যকায় পাওয়া যায়।
ভারতবর্ষে সাধারণত এপ্রিল-জুন সময়কালে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার সময় বিভিন্ন।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top