logo
news image

লালপুরে দাবদাহে ফলন বিপর্যয় শঙ্কায় আমচাষ

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)
বৈরী আবহাওয়া খরা, দাবদাহ, ঝড়, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশার কারণে হপারের আক্রমণ, মিজ পোকার আক্রমণ, অসময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা ও অতিবর্ষণ আম উৎপাদনে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর উদ্বেগে থাকেন। এ সব প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারা এগিয়ে চলেন। এ বছর তাঁদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দাবদাহ।
বাংলাদেশের সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত ও উষ্ণতম স্থান নাটোরের লালপুর। পদ্মাপাড়ের জনপদ পুড়ছে অগ্নিদহনে। সবকিছু আগুন ঝরা আবহাওয়ায় তেঁতে উঠেছে। উত্তপ্ত রোদ্র তাপে চোখ-মুখ যেন পুড়ে যাচ্ছে। বাতাসে বইছে আগুনের হল্কা।
কংক্রিটের ছাদ হোক কিংবা টিনের চালা ঘরের ওপর থেকে যেন আগুনই নামছে। ঘরের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। গরমে ওষ্ঠাগত মানুষ ও জীবজন্তুর প্রাণ। লকডাউন আর তাপপ্রবাহ একাকার হয়ে সড়কগুলো জনমানবশুন্য হয়ে পড়েছে। দিন দিন তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে।
দিনভর সূর্যের তীর্যক রশ্মী আর লু হাওয়া, রাতে গোমট গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে যাচ্ছে। এক পশলা বৃষ্টির জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ আর পশুপাখি। ঝড়-ঝঞ্ঝার বৈশাখে বৃষ্টির দেখা নেই। মেঘেরাও আকাশ থেকে উধাও হয়ে গেছে। রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে প্রকৃতি। বৈশাখী খরতাপ আর অনাবৃষ্টি বাড়িয়েছে কৃষকের সেচ খরচ। খরতাপে শুকিয়ে যাচ্ছে গাছে থাকা আম ও লিচুসহ মধুমাসের ফল।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এক হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। এই সকল জমি থেকে হেক্টর প্রতি ১৫ মেট্রিকটন হিসেবে ২৭ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্র্ধিারণ করা হয়েছে। গড়ে ১৬’শ টাকা মণ দরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আম বিক্রি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলার বিপুল পরিমাণ জমিতে আমের বাগান গড়ে উঠেছে। এবার গাছে গাছে ৯৫ শতাংশ মুকুল দেখে আশান্বিত হয়ে উঠেছিলেন আম চাষিরা, কিন্তু অনাবৃষ্টি আর দাবদাহ আমের ফলনকে শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।
তিন সপ্তাহ আগে টানা তিন-চার দিন আকাশ মেঘলা থাকায় রস শুকাতে না পারায় ছত্রাক বাসা বাঁধা এবং পরে রোদে ৫০ শতাংশ মুকুল শুকিয়ে ঝরা শুরু হয়। অনাবৃষ্টি ও দাবদাহের কারণে ঝরে পড়ছে গুটি।
আম ঝরে পড়া ঠেকাতে বাগানে বাগানে রাত-দিন চলছে সেচ প্রদান। তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আবার অনেকেই পুঁজির অভাবে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না। তাঁরা তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে, কখন বৃষ্টির দেখা মিলবে। শ্যালো মেশিনে সেচ দিতে গিয়ে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় দুই থেকে তিন গুণ সময় বেশি লাগছে।
উপজেলার কৃষ্ণপুর সেন্টারপাড়ার আম চাষি আব্দুল হালিম (৭০) বলেন, সাত বিঘা জমিতে তিনি আম বাগান করেছেন। গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার অনেক বেশি আম উৎপাদন হবে, কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ আগে কুয়াশা ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় ৫০ শতাংশ মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। ১০-১২ দিন থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, অতি খরার কারণে অনেক বাগানে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষক পর্যায়ে আম বাগনে নিয়েমিত সেচ ও ছোট আম গাছগুলিতে পানি স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলায় বেশির ভাগ বাগানে নাক ফজলি, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, ৭ ও ১১ জাতের আমগাছ রয়েছে। এ ছাড়া কিছু কিছু এলাকায় গৌড়মতি, ক্ষীরশাপাতি, হাঁড়িভাঙা, কুমরজালী ও দেশি জাতের গুটি আম রয়েছে। এ বছর আমগাছে মুকুল আসার সময় পর্যন্ত আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে ছিল। প্রতিটি বাগানের গাছগুলো মুকুলে ভরে গিয়েছিল। এরই মধ্যে মুকুল থেকে গুটি বেরিয়েছে, কিন্তু অনাবৃষ্টি ও দাবদাহে অনেক গাছের মুকুল ও গুটি ঝরে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top