logo
news image

কম্বোডিয়া থেকে লালপুরে এসেও সুখ সইলো না স্মৃতি বেগমের

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)
প্রায় ১৫ বছর আগের কথা। কম্বোডিয়ার খায়েতপ্রাইবাই থেকে চাকরীর খোঁজে মালোয়েশিয়ায় পাড়ি জমান ‘সামওন’। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাবা ‘হাইসামওল’ ও মা ‘ছনমাই’-এর কন্যা ২৫ বছরের যুবতী সামওন। বর্তমান তার বয়স ৪০ বছর।
এ দিকে একই সময়ে নাটোরের লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কয়লারডহর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ মালোয়েশিয়ায় চাকরীর জন্য যান। তার পিতা দবির উদ্দিন মহুরী ও মাতা আনোয়ারা বেগম। তিন ভাই চার বোনের মধ্যে তৃতীয় আবুল কালাম আজাদের বয়স তখন ২২ বছর। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৭ বছর।
মালোয়েশিয়ায় চাকরীর সুবাদে আবুল কালাম আজাদ ও সামওনের মধ্যে পরিচয় ঘটে। কিছু দিনের মধ্যে তা পরিণয় পর্যায়ে গড়ায়। উভয়ের সম্মতিতে সেখানে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় সামওন বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তার নতুন নামকরণ হয় ‘স্মৃতি বেগম’।
মালোয়েশিয়াতেই শুরু হয় তাদের সংসার জীবন। সেখানে আমেনা খাতুন (১৩), আয়েশা খাতুন (১২) এবং আমিরা খাতুন (৯) নামে তিন কন্যা সন্তান তাদের ঘর আলোকিত করে। ভালই চলছিল তাদের সুখের সংসার।
সাত বছর আগে স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে দেশে ফেরেন আবুল কালাম আজাদ। স্ত্রী সন্তানদের ভাড়া বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেন। আর্থিক যোগান দিতে তিনি একাই মালোয়েশিয়া ফেরত যান। উপজেলার বুধিরামপুর শান্তিপাড়ায় বাড়ি করার জন্য চার কাঠা জমি কেনেন। দুই কাঠার ওপর বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।
বছর খানেক আগে হঠাৎ আবুল কালাম আজাদের কিডনী রোগ ধরা পড়ে। মালোয়েশিয়ায় চিকিৎসা চলে। অসুস্থতার কারণে কাজ করতে না পারায় উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। চরমভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত মাঠের ১০কাঠা জমি বিক্রি করে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হয়। দেশে ফেরার এক মাসের মাথায় ২০২১ সালের ১৭ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল ২০২১) কথা হয় স্মৃতি বেগম ওরফে সামওনের সাথে। ভাল বাংলা বলতে পারেন না। ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় স্মৃতি বেগম বলেন, স্বামীর চিকিৎসার জন্য শেষ জমিটুকু বিক্রি করেছেন। মাথা গোঁজার ঠায় হিসেবে বাড়ির কাজ শুরু করেও শেষ করতে পারেন নি। তিনটি সন্তান নিয়ে তিনি এখন দিশেহারা জীবন যাপন করছেন।
তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। এতকিছু ত্যাগের পর আর তিনি দেশে ফিরতে চান না। তার ইচ্ছে মুসলিম হিসেবে মৃত্যুর পর কবরটা যেন তার স্বামীর দেশে হয়।
স্মৃতি বেগম আরো বলেন, তিনি সাত বছর বাংলাদেশে বসবাস করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র তার হয়নি। বিভিন্ন সময়ে অফিসে যোগাযোগ করে কোন ফল পাওয়া যায়নি। যার ফলে বিভিন্ন কাজে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত তার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
তিনি সবার প্রতি আকুতি জানান, সংসারের কোন উপার্জন না থাকায় তিনটি সন্তান নিয়ে চরম বিপদে আছেন। সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা যদি তার পাশে দাঁড়ান তাহলে মুসলমান হিসেবে তিনি সুষ্ঠু জীবন যাপন করতে পারেন। সন্তানদের সুসন্তান হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
আসুন আমরা অসহায় এই নারীর পাশে দাঁড়ায়।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top