logo
news image

লালপুরের মুরদহ গ্রামে মুজিব আলোকচিত্র

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)
বছর ব্যাপী পালিত হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণজয়ন্তী। সরকারি-বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। শেখ মুজিবকে শিশুদের কাছে চেনাতেই নেওয়া হয়েছে নানামুখি উদ্যোগ। শহরে বঙ্গববন্ধুক চেনাতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে তার ছিটেফোটাও চোখে পড়ে না। তবে এবার সেই উদ্যোগ নিয়েছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজ-নাজনীন ফাউন্ডেশন’।
নাটোরের লালপুর উপজেলার মুরদহ গ্রামে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ছবিসহ ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামটিতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, চর্চা, সাহসীকতা ও শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা হচ্ছে আলোকচিত্রের মাধ্যমে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মুরদহ গ্রামের ঘরের দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর অমর সব কর্মযজ্ঞ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের নানান ইতিহাস। সঙ্গে রয়েছে সংক্ষিপ্ত বিবরণী। আর এসব অমর কাহিনী দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন লোকজন। সন্ধ্যার পর লাইটের আলোয় ফুটে ওঠা এসব ছবিতে চোখ বুলিয়ে দর্শনার্থীরা জেনে নিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস। হাফিজ-নাজনীন ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগ প্রশংসা কুড়াচ্ছে সবখানেই।
২০১৬ সালের দিকে আপন পাঁচ ভাই মিলে পিতা-মাতার নামে ‘হাফিজ-নাজনীন ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান। শুধু বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নয়, মুরদহ গ্রামের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি রাখছে ব্যাপক অবদান।
জনকল্যাণমুখী এই প্রতিষ্ঠানটি মুরদহ গ্রামে কুয়েতি ট্রাস্টের সহায়তায় নির্মাণ করেছে ২০টি মসজিদ। গ্রামের মানুষদের সুপেয় পানির জন্য স্থাপন করেছে ৫০০টি নলকূপ। এ ছাড়া দুইতলা মাদরাসা, স্কুল সংস্কার এবং বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছে এই ফাউন্ডেশন। গ্রামের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হাফিজ-নাজনীন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গ্রামে ১০টি সেলাই মেশিন বসিয়ে আউটলেট তৈরি করা হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফাউন্ডেশন নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর গ্রামের অতি দরিদ্র ও অনগ্রসর ৩০ জন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে ফাউন্ডেশনটি।
হাফিজ নাজনীন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হওয়ার পর সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশ পরিচিতি পেয়েছে বীরের জাতি হিসেবে। বঙ্গবন্ধু নিজের তথা পরিবারের কথা চিন্তা না করে সারাটি জীবন দেশ ও মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন। নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের ক্রান্তিলগ্নে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তার এসব অমর কর্মগুলো গ্রামের সাধারণ মানুষদের মাঝে পৌঁছানোর জন্য আমি এই স্থায়ী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছি। এতে সাধারণ মানুষ ইতিহাস জানার পাশাপাশি সুস্থ্য পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এর পরিধি আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই নেতৃত্বে হয় মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশের জনগণ। বাঙালির ইতিহাসে চির স্মরণীয় ‘মুজিব’। শুধু দেশ স্বাধীন নয়; বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে অন্য মাত্রায় তুলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব আজ সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নত করেছে। বিশ্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি চেষ্টা করছেন জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের। আমাদের মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু।’

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top