logo
news image

দরিদ্রতার করালগ্রাসে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন প্রবীণ রাজনীতিক বাছের আলী খান

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নাটোরের লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাছের আলী খান দরিদ্রতার করালগ্রাসে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। ৭৪ বছর বয়সী প্রবীণ রানীতিক রোগ-শোকে জীর্ণ হয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিন তার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, এই শীতে ঘরের বারান্দায় শুয়ে শুয়ে আছেন। বিভিন্ন রোগ আর দরিদ্রতা তাকে ঘিরে আছে। নিজে কোন রকম জরুরি কাজ সারতে পারলেও বাইরে যেতে পারেন না। এই দুর্দিনে তার পাশে কেউ নেই বলে আক্ষেপ করেন। দীর্ঘ রাজতৈনিক জীবনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
বাছের আলী খান আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘১৯৯০ সালে তার ফুসফুসে পানি জমা হয়েছে ধরা পড়ে। ১৯৯৭ সালে ধরা পড়ে টিবি। ২০০৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরো অপারেশন হয়। ২০০৮ সালে হাপানী রোগ ধরা পড়ে। জমিজমা বিক্রি করে চিকিৎসা করে আসছি। এখন তিনি নি:স্ব হয়ে গেছি। কিছু জমি ইজারা দিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। দীর্ঘ দিন তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। কিন্তু তার কথা ভাবার এখন কেউ নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার দুর্দশার কথা তুলে ধরবেন। এই অন্তীম মুহুর্তে আমি সহযোগিতা না পেয়ে হয়তো অচিরেই মারা যাব।’
উল্লেখ্য, নাটোরের লালপুরের আড়বাব খাঁপাড়া গ্রামে ১৯৪৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মো. বাছের আলী খান। পিতা মরহুম আরজান খান ও মাতা মরহুম মরিয়ম। স্ত্রী আফরোজা খান।
তিনি গোদাগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি, করিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, নাটোর নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৬৬ সালে বিকম পড়াশুনা করেন।
তিনি ১৯৬২ সালে নাটোর নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালে লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, ১৯৮০-২০১০ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ১৯৬৮ সালে লোকমানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭২-১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top