logo
news image

করোনায় সেদিন প্রবাসী এলামনাসদের ফিকে রজত

প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম।।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রথমব্যাচের শিক্ষার্থীদেরকে আমি কোনমতেই ভুলতে পারি না। ওরাও পারে না। দেখতে দেখতে ২০২০ সালে কিভাবে যে বিভাগটির পঁচিশ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক হিসেবে খুব ভারিক্কি চালে চলতে পারিনি। সবেমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছি। এম.এস.এস ফল বেরুনোর কয়েকমাসের মধ্যেই সরকারী চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নবগঠিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের নবীন প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছি। নতুন ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা বলতে যা বুঝায় তখন সেখানে কিছুই গড়ে উঠেনি। তাই পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাথেই বেশী সময় কাটতো। খেলাধূলা, স্কাউটিং ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিয়ে ওদের সাথে বেশী যোগাযোগ হতো। তিন বছর পর হঠাৎ সেখান থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি। এরপর উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে চলে যাই। কিন্তুু ভার্চুয়াল যোগাযোগ হতো অনেকের সাথে।
দেশে ফিরে এসে একাডেমিক তাগিদে বিভাগের সাথে আবার যোগাযোগ তৈরী হয়ে যায়। ইতোমধ্যে প্রথমব্যাচের শিক্ষার্থীদেরকে আমি নতুনভাবে আবিষ্কার করি। ওরা কেউ আমার কলিগ হয়েছে, কেউ কেউ দেশ বিদেশের বড় বড় জায়গায় বড় পদে আসীন হয়েছে। ওদের এলামনাই সংগঠন তৈরী হয়েছে। আমিও তাদের প্রিয় শিক্ষক হিসেবে তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে পড়েছি।
প্রথমব্যাচের শিক্ষার্থীদের পঁচিশ বছর পূর্তি অর্থাৎ, রজত জয়ন্তী। সমাজকর্ম বিভাগেরও রজত জয়ন্তী। আমি বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা বিনিময় করার জন্য ডাক পেয়েছি।
প্রস্তুতি খুব ভালই চলছিল। দেশের বিভিন্ন কর্ণার থেকে আমরা সিলেটে যথাসময়ে হাজির হয়েছিলাম। রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে একজন মন্ত্রী, দু’জন ভিসি সহ অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। দেশের ভেতর থেকে আমরা সবাই রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বেশ আনন্দ উপভোগ করলেও সমাজকর্ম, শাবি-র প্রবাসী এলামনাসরা ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমাদের সাথে যোগ দিতে পারেনি। হঠাৎ করোনার প্রাদুর্ভাব ও দেশে দেশে ভ্রমণ নিশেধাজ্ঞা ওদেরকে বাংলাদেশের মাটিতে আসার ইচ্ছে ও প্রিয়জনদের সাথে দেখা হবার আকাঙ্খাকে ফিকে করে দিয়েছিল।
হঠাৎ অনুভব করলাম ইউরোপ-আমেরিকা থেকে প্রথমব্যাচের শিক্ষার্থীদের কেউ সিলেটে আসেনি। অথচ, ওদের উৎসাহে এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল। ওরা নেই। মালয়েশিয়া, ব্রুনাইতে ওদের দু’জন ব্যাচমেট থাকে, ওরাও নেই। কারণটা জানা গেল- ওসব দেশে করোনা নামক মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় অনুমতি পেতে জটিলতা হয়েছে। ফলে ওরা আসতে পারেনি।
অনেকদিন পর যখন ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা সংক্রমণ বেশ ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরী করেছে  তখন ওদের কথা খুব মনে হচ্ছিল। এসময় ঘরে বন্দী মহাকাল। অনলাইনের সব খবর আপলোড হতেই পড়া হয়ে যায। এরপর লেখালেখি করে সময় কাটাই। আমার লেখাগুলিও খুব দ্রুত ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড হয়ে যায়। দেশ বিদেশ থেকে মতামত, কমেন্ট পেলেই বুঝতে পারি আমার লেখাগুলোতে ওদের চোখ বুলানো হয়ে গেছে। তবুও কেমন জানি একটু কৌতুহল, একটা শুণ্যতা থেকে যায়।
করোনার সংকটময় পরিস্থিতিতে একদিন একটু বেশী করে জানার আগ্রহ হলো। এজন্য দু’ মহাদেশে অবস্থান করা ওদের ব্যাচের দু’জনকে জিজ্ঞাসা করলাম- তোমরা সবাই কেমন আছ? অন্যদের সবার খবরাখবর ভাল তো?
নানা ব্যস্ততার মধ্যেও আসাদুজ্জামান আসাদ জানিয়েছে সে লসঅ্যাঞ্জেলস্-এর ক্যালিফোর্ণিয়ায় থাকে। সে পরিবার নিয়ে সেখানে বাস করে। এই সংকটের সময় ওদের নিজস্ব কাজে ওরা দুজনই ব্যস্ত সময় পার করে। ওর পরিবারের সবার স্বাস্থ্য ভাল আছে।
সাঈদা রশিদ মুন্না নিউইয়র্কে থাকে। সে একটি বিদেশী সংস্থায় বড় চাকুরী করে। নিউইয়র্কে করোনার ঝড় বয়ে গেলেও সবার দোয়ায় সে পরিবারসহ ভাল আছে। ওর সাথে প্রথমব্যাচের অনেকের ভাল যোগাযোগ রয়েছে বলে একজন জানিয়েছে।
মাসুক আজাদ আসাদের আবাসস্থল থেকে চার ঘন্টার ড্রাইভিং দূরত্বে ভার্জিনিয়ায় থাকে। সে রেডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক ছিল বলে আগে জেনেছিলাম। এখন প্রফেসর হিসেবে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছে। সে আরেকটু থিতু হলে হয়তো বিস্তারিত জানা যাবে। আসাদের সাথে প্রায়শই: ওর যোগাযোগ হয়। তানজিনা সালাম মুন্নাও ক্যালিফোর্ণিয়ায় থাকে। কিন্তু তেমন একটা দেখা হয় না ওর সাথে। তবে এই কঠিন সময়ে সেও ভাল আছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনার প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা ছিল বেশ প্রবল। এর প্রথম ধাক্কাতেই ত্রিশ মিলিয়ন মানুষ চাকুরী হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে (ডেইলি স্টার ০৯.০৫.২০২০)। অর্থনৈতিক মন্দা দেশটির সব জায়গায় চোখে পড়ছে। জুন মাস শেষ না হতেই সেখানে ২৬টি অঙ্গরাজ্যেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, দেশটিতে নিশ্চিতভাবে করেনার শিকার হয়েছে ৩৯ লক্ষের অধিক মানুষ। এতে মারা গেছে এক লক্ষ ২৬ হাজারেরও বেশী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৭২ জন বাংলাদেশী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
লকডাউন খুলে অর্থনীতি চাঙ্গা করে দেয়ার পরিকল্পনা করার ২ সপ্তাহের মাথায় জুন ৩০, ২০২০ তারিখে সারা দেশে সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে গোটা দেশ। এই দ্বিতীয় ঢেউ সামলানোর সাথে বেকারত্ব ও বর্ণবাদী আন্দোলন থামানোর জন্য অনেক বেগ পেতে হবে দেশটিকে।
ইউরোপের সংবাদ জানার জন্য ফেসবুকে মাঝে মাঝে চোখ বুলাই। করেনা সংক্রমণের প্রথম দিকে সবাই অনেক কিছু লেখালেখি করলেও এখন অনেকটা ঝিমিয়ে গেছে মনে হয। এছাড়া সবার ব্যস্ততা আছে। এত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রিয় তৌহিদ চৌধুরী একদিন জানালো- ইউরোপে অবস্থানরত ওদের ব্যাচের সবাই পরিবারসহ সুস্থ আছে। যতটুকু তার স্মরণে আছে তাতে সে জানিয়েছে, মতিন, ঝিনি, ডালিয়া, রাজ্জাক, রুমান, মীনাক্ষী ও তৌহিদ নিজেই ইউ.কে-তে বসবাস করছে। এছাড়া, মন্জুরুল হক ফ্রান্সে বাস করছে।
মহান সৃষ্টিকর্তার অপার রহমতে ইউরোপে অবস্থানরত ওরা সবাই নিজ নিজ পরিবার-পরিজনসহ সুস্থ জীবন যাপন করছে। মার্চ ২৩ থেকে জুলাইয়ের অর্ধেক চলে গেলেও ওরা কেউ কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়নি। জুন ৩০ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা মেনে অনেকে গৃহবন্দী জীবন যাপন করলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটা ভাল হওয়ায় সবাই কজে ফিরেছে।
ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়াও প্রথম ব্যাচের যে যেদেশেই থাকো না কেন, সবাই সুস্থ ও নিরাপদে অবস্থান করে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে তৎপর থাক এই কামনা ও দোয়া করি।
করোনা পরিস্থিতি ভাল হলে এই লেখাটি আরো তথ্যসমৃদ্ধ করে আপডেটেড করার ইচ্ছে রয়েছে। তোমাদের থেকে মেসেজ পেলে হয়তো সেগুলো নতুনভাবে সন্নিবেশিত করতে পারবো।
চীনে ভয়াবহ সংক্রমণ ও সাড়ে তিন হাজার মানুষের অকাল মৃত্যুর পর ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে করোনা। ইটালী, ইংল্যান্ড, জার্মানী, স্পেনসহ অনেক দেশ হতচকিত হয়ে উঠে করোনার মরণ কামড়ে। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক প্লাটফর্মে করোনার তথ্য আসতে শুরু করে।
বিদেশের মাটিতে করোনায় বাংলাদেশীদের মারা যাবার সংখ্যা ১৯ দেশে ১,৩৮০ বলে জানা গেছে। এছাড়া শুধু শ্রমিক নয়- ইউরোপ-আমেরিকায় অনেক বাংলাদেশী চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও বরেণ্য ব্যক্তিও মারা গেছেন করোনার আক্রমণে। সৌদি আরবে পাঁচ চিকিৎসকসহ ৫২১ জন বাংলাদেশী মারা গেছেন। তিন হাজার পাঁচশত সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশে ফেরার জন্য আবেদন করেছেন। ইটালী, স্পেন, সুইডেন প্রভৃতি দেশে বহু বাংলাদেশী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শুধু বৃটেনে ৩০৫ জন বাংলাদেশী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এজন্য প্রবাসীদের মধ্যে হতাশা জন্ম নিয়েছে। ফলে যার যতটুকু সঞ্চয় আছে সেটা দেশে পাঠিয়ে দিয়ে নিশ্চিত হতে চাচ্ছেন। এই বৈদেশিক অর্থ দিয়ে দেশে ফিরে দেশের মাটিতে কিছু একটা করার আশা তাদের মধ্যে।
প্রথমদিকে বার বার হাত ধোয়া নিয়ে মজা করা হতো। তাহ্জীবা আশরাত জাঁহা একদিন বললো- ‘হাত ধুতে ধুতে হাতটাই তো ক্ষয়ে যাবে বুঝি!’ তখন বুঝেছিলাম ওদের এখন খুব বিপদ। তখনও বাংলাদেশে করোনা আসেনি। কত ভাল আছি আমরা বলে স্বস্তি লাগতো। বাংলাদেশের সেই ভাল থাকা আর দীর্ঘায়িত হয়নি।
সেই ভাল অনুভব আর চারমাস পরে আজকের অনুভবের মধ্যে অনেক তফাৎ। দেশে এখন কম্যুনিটি সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। জুলাই ১৭, ২০২০ পর্যন্ত প্রায় দুইলক্ষ জন মানুষ শুধু সরকারী হিসেবে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছেন দুই হাজার চারশত ছিয়ানব্বই জন। সিজিএ-এর গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী বেসরকারী হিসেবে বাড়িতে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা আরো এক হাজার আটশত জন। এছাড়া শুধু চিকিৎসক মারা গেছেন ৬৭ জন। এপর্যন্ত নকল কীটের কারণে ১০১১ জন চিকিৎসক, ১৩১৩ জনস্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ, ১১৬০ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সারা পৃথিবীতে চিকিৎসকদের আক্রান্ত হবার হার ২.৫% হলেও বাংলাদেশে এই হার ৪%। সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসক মারা যাবার এ হার অবস্থা চরম ভয়াবহ। পেশাদারী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যাপক হারে চিকিৎসক ও নিরাপত্তা কর্মীদের আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি সবাইকে হতাশ করেছে।
আমাদের দেশে তখনও করোনার কথা তেমনভাবে কেউ জনেতো না। সরকারীভাবে কোন সতর্ক নির্দেশনা জারি হয়নি। আমরা পরিবার নিয়ে দীর্ঘ পথ ট্রেন, প্লেনে চড়ে আনন্দ করতে করতে সিলেটে হাজির হয়েছিলাম এবং যথারীতি অনুষ্ঠান উপভোগ করেছি।
সেই যে করোনা নামক মহামারী রোগের নাম কোভিড-১৯ নিয়ে বৈশ্বিকভাবে আতঙ্ক নিয়ে শুরু হয়ে গেল তা এখন পর্যন্ত বয়ে চলেছে।
চীনের উহানে শুরু হওয়া করোনার আক্রমণ তখন কিন্তু শুরু হয়েছিল বেশ জোরেশোরেই। তিনজন মারা গেছে উহানে। সেখানকার সমুদ্রপাড়ের সী ফুডের দোকানের পাশে বন্যপ্রাণী কেনাবেচার দোকান। চীনারা সবধরনের বন্যপ্রাণীর মাংস খায়। সেখান থেকে নাকি এই রোগের উৎপত্তি হয়ে ছড়িয়ে গেছে। চীনারা এটা মূল কারণ হিসেবে প্রচার করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা মনে করে না। তারা বলছে উহানের ল্যাব থেকে করোনার উৎপত্তি হয়ে দুর্ঘটনার মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে এই ভয়াবহ জীবাণু। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ওদের একজন মেধাবী ডাক্তার (গবেষক) মারা গেছেন। যাকে এই তথ্য ফাসের দায়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ও জেল হয়েছিল তার। আমেরিকা অভিযোগ করলেও চীনারা তা অস্বীকার করেই যাচ্ছে। যদিও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক দোষারোপ জনমনে সন্দেহ তৈরী করেছে। তাই এর মূল কারণ আজও ঘোলা পানির মত অস্বচ্ছ।
যাহোক্, যেটা লিখতে শুরু করেছিলাম- সমাজকর্ম, শাবিপ্রবি প্রথম ব্যাচের প্রবাসী শিক্ষার্থীদের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে আসতে না পারার কারণ হিসেবে তাদের দেশে করোনার জন্য ভ্রমণ নিশেধাজ্ঞা থাকা নিয়ে। ওরা আইন মেনেছে কতোটা কঠোরভাবে। সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় খুব দ্রুত তাদের দেশগুলোতে করোনা সংক্রমণের পিক সময় সম্পর্কে জানা গেছে। সংক্রমণের শুরু থেকে মাত্র ৭৬ দিনের মধ্যে এখন তারা করোনার প্রাদুর্ভাব  নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এখন সবকিছু চালু করে দিয়েছে। খুব দ্রুতই তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে।
কিন্তু আমাদের দেশে সংক্রমণের শুরু থেকে ১২৩ দিন গত হলেও এখনও পিক আসেনি বলে জানানো হচ্ছে। আমাদের দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুহারের উর্ধ্বগতি এখনও ভয়াবহ পর্যায়ে। আমাদের গণ-স্বাস্থ্যবীমা নেই। সাধারণ হাসপাতালে উন্নত সেবা নেই। টেষ্ট করা নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। পর্যাপ্ত পিসিআর মেশিন না থাকায় করোনা উপসর্গসহ অসংখ্য রোগী টেষ্ট করার জন্য দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। কিছু অসাধু ব্যাক্তি করোনার নমুনা টেষ্ট না করেই ভুয়া রিপোর্ট বিক্রি করার ঘটনায় দেশে বিদেশে আমাদের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ও দেশের মান-সম্মান নষ্ট করা হয়েছে। করোনা নমুনা টেষ্ট করা ও ফলাফল পেতে দীর্ঘসূত্রিতায় অনেকে নিজের করোনা ফলাফল জানার আগেই চিরবিদায় নিচ্ছেন। চিকিৎসা সেবার হীন পরিস্থিতির কারণে এখন কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে চাচ্ছেন না। এত নাজুক অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগে ভয়ানক দুর্নীতির খবর আমাদেরকে আরো বেশী হতাশ করে তুলেছে।
করোনা একটি বৈশ্বিক অতি-মহামারী। অনেক দেশে এটার প্রকোপ কমে গিয়ে আবার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। তাই এখনও সময় আছে আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিজের মত করে ভাবি ও মেনে চলি। পাশাপশি, বন্ধু, পরিবার, সমাজ ও সমষ্টি পরিবেশের জন্যেও যথাযথ উপকার করতে না পারলেও সাধ্যমত সহযোগিতা করতে সবাই তৎপর থাকি, এগিয়ে আসি।
তোমরা ভাল থাক। পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা কর। রাতের আঁধার বেশী ঘণীভূত হলে প্রভাত আসে দ্রুত। করেনা তোমাদের রজতানুষ্ঠানকে ফিকে করে দিলেও- ইনশাআল্লাহ সামনের সুন্দর এক সকালে সভা, সেমিনার, কনফারেন্স ছাড়াও সুবর্ণ জয়ন্তীতে আবার তোমাদের সাথে মিলিত হব, আবার দেখা হবে ।
* প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top