logo
news image

করোনা অনুভূতি

সাদিকুর রহমান নোমান।।
২০০০ সাল, হঠাৎ করে সিলেটের স্হানীয় পত্রিকায় আকাশে পাখা মেলে বেড়ানো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে, শখের বশে আবেদন করি। হেসে খেলে সিলেক্টও হয়ে যাই। ট্রেনিং পর্যায়ে সবাইকে অবাক করে প্রথমও হয়ে যাই। আগ্রহ বাড়তে থাকে। ১৭ই ডিসেম্বর যোগদান করে, ২৬ ডিসেম্বর প্রথম আকাশচারী জীবনের সুচনা।
এই জীবন আমাকে অনেক অনেক দিয়েছে। পৃথিবীর যে সব শহর দেখেছি, ঘুরেছি, যেসব হোটেল থেকেছি; আমি যদি বিরাট ব্যবসায়ী অথবা অনেক বড় মন্ত্রী মিনিষ্টার হইতাম তাও সম্ভব হতো না। সময় খুব দ্রুত চলে যায় এই জীবনে। প্রতিটি ডিউটি এক একটি নতুন অভিজ্ঞতা। যোগদানের পর থেকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, মন্ত্রী কিংবা আমলা কার সাথে দেখা হয়নি সেটাই হিসাব করা সহজ হবে। এই করোনা কালিন সময়ে থমকে যাওয়া জীবনের মাধ্যমে উপলব্ধি হয়েছে, কত সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। এই অল্প কয়েকটি দিন ঘরে বসে কাটাতে অনেক অনেক কষ্ঠ হচ্ছে। এই জীবনে আমার দেখা সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হলো, আপনি যতদিন পদধারী, ততদিন আপনি আপনার আশে পাশে অনেক মানুষ দেখবেন খেদমতে ব্যস্ত। কিন্তু যখনই আপনি পদ হারিয়ে ফেলবেন, দেখবেন কেউ আপনার আশেপাশে নাই। আমরা দেশে মানুষকে মুল্য দেই না, দেই চেয়ারকে। কিন্তু বিপরীত জিনিসটাই কাম্য। দুই-একজন ব্যতিক্রমী মানুষ তাদের বিশাল ব্যক্তিত্বের কারনে অবশ্য উভয় অবস্থায় শ্রদ্ধা ভালোবাসা পায়। করোনা আমাদের সবাইকে সর্বাবস্হায় মানুষের ভালোবাসার যোগ্য করে তুলুক।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top