logo
news image

স্মরণ: বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান মাস্টার

আবুল হোসেন।।
গ্রামের নাম ‘পাথালিয়া’ তৎকালীর জামালপুর মহকুমার শহরতলী। এ গ্রামের শরীফ উদ্দীনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন আজিজুর রহমান । দাদা আলহাজ্ব ময়েজ উদ্দিনের চার সন্তানের ঘরে ২৩জন নাতি-নাতনি জন্মগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সন্তান আজিজুর রহমান। আমরা বাকী ২২ ভাই-বোন তাকে দাদা ভাই বলে সম্বোধন করতাম। আমার বংশের প্রদীপ, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এ পরিবারে তাঁর ছিল ব্যাপক প্রভাব। বিয়ে-শাদী, মুসলমানি, বাড়ি অথবা গ্রামের যেকোনো অনুষ্ঠানে দাদা ভাইয়ের ছিল দীপ্ত পদচারণা।
দাদা আলহাজ্ব ময়েজউদ্দিন ছিলেন জামালপুর তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রখ্যাত বেহালা বাদক। চাঁদনী রাতে বাউল আসরে যখন ‘স্বপনে দেখিলাম আমি মধুমালার মুখরে....’ গানটি দিয়ে শুরু করতেন তখন পুরো আসরে নেমে আসতো পিনপতন নিরবতা। জোৎস্না প্লাবিত রাতে সৃষ্টি হতো এক মায়াবী, মোহনীয় পরিবেশ। আমার বড় চাচা জনাব শরীফ উদ্দিন ছিলেন গ্রামের গানের দলের অধিকারী (দলপতি)। এই গানের দল নিয়ে তিনি চলে যেতেন বিভিন্ন জায়গায় গান করার জন্য।
এরকমই একটি সাংস্কৃতিক আবহে ১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠেন আমার দাদা ভাই। খুবই ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন। পড়াশোনায় অমনোযোগিতার কারণে তথাকথিত ভালো ফলাফল তিনি কখনো করতে পারেননি। জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকেই বিএ পাশ করেন এবং জামালপুর হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় ছিলেন এবং জামালপুর মহকুমার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, মুক্তিযোদ্ধা গোয়েন্দা বিভাগে একজন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একজন সংগঠক হিসেবে আজিজ ভাইয়ের জুরি মেলা ভার। বাংলাদেশ স্কাউট, জামালপুর রেডক্রিসেন্টের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি জড়িত ছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছিলেন জামালপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। একজন দক্ষ উপস্থাপক হিসেবে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ সহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে তার স্বতস্ফর্ত ধারা বিবরণী আজও হৃদয়ে শিহরণ জাগায়। তিনি ধারা বিবরণী দিলে সারা স্টেডিয়ামে করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠতো। একজন নাট্য শিল্পী হিসেবে জামালপুর পাবলিক হলে অনেক নাটকই তিনি মঞ্চস্থ করেছেন। তার লিখিত ‘পঞ্চরত্ন’ ও ‘ঝলকে ঝলকে প্রেম’ তৎকালীন পাঠক সমাজে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলো। আজ আমার প্রিয় দাদা ভাইয়ের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সবার নিকট দোয়াপ্রার্থী। ওপারে ভালো থাকবেন দাদা ভাই।
* আবুল হোসেন: অধ্যাপক , সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top