logo
news image

দেশে গেলেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ১৭৮ রাশিয়ান কর্মকর্তা-কর্মচারী

স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদীঃ
বিশেষ একটি চার্টার ফ্লাইটে সোমবার সন্ধ্যায় রুশ রাষ্ট্রীয় পরমানু শক্তি কর্পোরেশন- রসাটম, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত তাদের ১৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাশিয়ায় নিয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে নয় অধিকাংশই নিয়মিত রিপ্লেসমেন্ট প্রক্রিয়া এবং স্বেচ্ছায় এই ১৭৮জন রাশিয়ান নাগরিকের ঢাকা ত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এতে রূপপুর প্রকল্পের নির্মান কাজ ব্যাহত হওয়ার কোনও আশংকা নেই বলে রসাটম এবং প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর হতে ইত্তেফাককে জানানো হয়েছে।
রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ এক বিবৃতিতে জানান, "আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ত আমাদেরই। কেউ কেউ করোনা পরিস্থিতির কারনে রাশিয়ায় তাদের পরিবারের সাথে থাকার ইচ্ছা পোষন করেছিলেন। রুশ সরকারের অনুমতিক্রমেই বিশেষ চার্টার ফাইটে ১৭৮ জনকে রাশিয়া নিয়ে আসা হয়েছে। এদের সকলেই সুস্থ আছেন। যদিও রূপপুর প্রকল্প সাইটে কোনও করোনা সংক্রমনের ঘটনা নেই, তবুও রুশ সরকারের বিধান অনুযায়ী তাদের নিঝনি নভগোরাদ শহরে বিশেষ ব্যবস্থায় ১৪ দিন আইসোলেশনে কাটাতে হবে।
এব্যাপারে মঙ্গলবার প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে কাজের জন্য এসব রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও কর্মীরা এসেছিলেন, সেকাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তাই এদের বেশীরভাগেরই ভিসা ও উপ-ঠিকাদারের চুক্তি মেয়াদও শেষ হয়েছে। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় দেশে যাওয়ার ইচ্ছেও পোষণ করেছিলেন। করোনার কারণে নিয়মিত ফাইট চলাচল নিষিদ্ধ থাকায় এরা দেশে ফিরতে পারছিলেন না। ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে বিশেষ ফাইট চার্টার করে তারা একসাথে দেশে ফিরেেছন। এটি রুটিন ওয়ার্ক। জুন-জুলাই হতে পরবর্তী ধাপের কাজ এবং বছরের শেষের দিকে মূল রিএ্যাক্টর বসানোর কাজ শুরু হবে। এসব কাজের জন্য নতুন বিশেষজ্ঞ ও কর্মী যারা আসবে তারা ইতোমধ্যেই রাশিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসে আবেদন করে অপেক্ষামান রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাদের ভিসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তারা বাংলাদেশে আসবে। রাশিয়ানদের চলে যাওয়ার সাথে প্রকল্পের চলমান নির্মাণ কাজের কোন সম্পর্ক নেই। এখনও প্রকল্পে বেশীরভাগ রাশিযানসহ দুই সহস্রাধিক বিদেশী নাগরিক কর্মরত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্মাণ কাজ আগের মতোই পূর্ণোদ্যোমেই চলছে।
প্রসঙ্গত: ভিসা ও চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় বোয়িং ৭৬৭ মডেলের একটি উড়োজাহাজে রূপপুর প্রকল্পের ১৭৮ জন রাশিয়ান নাগরিক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য