logo
news image

ঈশ্বরদীর বিশিষ্টজনদের মতামত : করোনা মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ
শুধুমাত্র সরকারি কর্মকান্ডের উপর নির্ভর না হয়ে করোনা মোকাবেলায় ঈশ্বরদীবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী,  উপজেলা পরিষদ,  পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের সচেতন ও বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে বলে বিশিষ্টজনরা মনে করেন। আপদকালীন এই সময়ে দরিদ্র, নিম্নআয়ের কর্মহীন মানুষ এবং ছিন্নমূল মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস বলেন, করোনা প্রতিরোধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিম্নআয়ের মানুষদের খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এটি শুধু সরকার বা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক,সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আর যারা বিত্তবান ও সামর্থ্যবান রয়েছেন তারা কর্মহীন ও অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করবেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক উদয় নাথ লাহিড়ী বলেন, এতো কিছুর পরও এখনও যারা মাস্ক ছাড়া এবং অযথা বাইরে চলাফেরা করছেন তাদের সচেতন করতে হবে। অনেক সহায়-সম্বলহীন মানুষ যারা এখনও মাস্ক কিনতে পারেনি তাদের মাস্ক কিনি দিয়ে সহযোগিতা করা অতিজরুরী হয়ে পড়েছে। সরকারি প্রচার মাধ্যম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় করোনা নিয়ে সচেতনামূলক ব্যাপক প্রচারণা সত্বেও ঈশ্বরদীর  অনেকেই এখনও সচেতন হননি। এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ক্রমশ  খারাপের দিকে ধাবমান হবে।

এসব বিষয়ে কথা বলেন, ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল। তিনি বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। করোনা মোকাবেলায় আমাদেরও তেমনিভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা শহর থেকে গ্রামে পালিয়েছিল, সেসময় গ্রামবাসীরা সকলে মিলে শরণার্থিদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সেসময় ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ আগলে রেখেছিল বলেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছিল। এবারেও এই পরিস্থিতিতে আপদকালীন মোকাবেলায় দরিদ্র, নিম্নআয়ের কর্মহীন মানুষ এবং ছিন্নমূল মানুষের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে হবে। সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে যারা ইতোমধ্যেই এগিয়ে এসেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে বাঙ্গালি জাতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আরো মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, করোনা ভাইসরাসের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সবাইকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরে থাকতে হবে। আমাদের প্রতিবেশীদের খোঁজখবর রাখতে হবে। এদের মধ্যে যদি কেউ কর্মহীন বা দরিদ্র থাকে  সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করতে হবে।  সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের  নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে।

ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। করোনা মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নিদের্শনা মানতে হবে। আরেকটি কথা সবাইকে বলতে চাই, তাহলো এখন যারা ত্রাণ বা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন তারা ফটোসেশন  করবেন না। যারা ত্রাণ গ্রহণ করছেন তারা সবাই দুঃস্থ বা অতিদরিদ্র নয়। শুধুমাত্র করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন পড়ায় অনেকের খাদ্য সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। এসব কর্মহীন মানুষদের সহযোগিতা সামর্থ্যবান নৈতিক দায়িত্ব। তাই আসুন ফটোসেশন নয়, প্রকৃত খাদ্য সংকট যাদের রয়েছে তাদের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিই।


সাম্প্রতিক মন্তব্য