logo
news image

পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগে জনবল সংকট

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগে জনবল সংকটের কারণে ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল পরিচালনা করা হচ্ছে। সময়সূচির বিপর্যয় ঘটায় ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের অনেক বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি রেলপথের পরিধি বৃদ্ধি না করেই নতুন নতুন ট্রেন চালু এবং পুরোনো লাইনের সংস্কার কাজ না করায় বারবার ঘটছে ট্রেন দুর্ঘটনা।
রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জনবল সংকটের কারণে ৪৪টি ষ্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। ষ্টেশন বন্ধ থাকায় এই বিভাগে ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ পদ্ধতি হলো একটি ট্রেন যখন ষ্টেশন ত্যাগ করে তখন ট্রেনটি পরবর্তি ষ্টেশনে পৌঁছানো না পর্যন্ত ওই লাইন দিয়ে আর কোন ট্রেন চালানো সম্ভব হয় না। ফলে বন্ধ ষ্টেশন অতিক্রম করার জন্য রেল লাইন অবরোধ করে রাখা হয়। পরবর্তি ষ্টেশনে ট্রেন পৌঁছালে রেল লাইন অবমুক্ত করা হয়। এই পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালিত হওয়ায় ট্রেনের সময়সূচির বারবার বিপর্যয় ঘটছে। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনগুলো গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে না পারায় যাত্রীদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাকশী বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অচলাবস্থা। ষ্টেশন মাষ্টার ও পয়েন্টস ম্যানের পদ শুণ্য থাকায় বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য রেলভবনে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।  
রেলওয়ের পাকশী বিভাগে মোট ১১৩টি অপারেটিং ষ্টেশন রয়েছে। অবসরজনিত কারণে পর্যায়ক্রমে এসব ষ্টেশনের মাষ্টার ও পয়েন্টসম্যনের পদ শুণ্য হওয়ায় ৪৪টি ষ্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ৬৯টি ষ্টেশন চালু রয়েছে। এসব ষ্টেশনে চুক্তিভিত্তিক ষ্টেশন মাষ্টার ছিল ৪৫ জন। বিগত মার্চে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ ভূঁইয়া জানান, রেলওয়ের অর্গানোগ্রামে নতুন জনবল নিয়োগে জটিলতা রয়েছে। বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিষেধ রয়েছে। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা আবারো চুক্তিভিত্তিক নিয়েগের জন্য আবেদন জানাবো।

সাম্প্রতিক মন্তব্য