logo
news image

লালপুরে বাঁধে ধ্বস আতংক

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
পদ্মা নদীতে পানি কমতে শুরু করলে আকস্মিক বন্যার কারনে নাটোর লালপুরে পদ্মা নদীর বামতীরের তিনটি স্থানে ধ্বস দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পদ্মার তীরবর্তী মানুষ।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আকছেদ মোড়ে ৮০ মিটার এবং নুরল্লাপুরে নতুন বাঁধ এলাকায় ১৫০ মিটার এলাকা জুড়ে তীর রক্ষা ব্লক ধ্বসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে নুরুল্লাপুরে। এই স্থানে ৭৩মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষেরা।
স্থানীয়রা বলছেন, পদ্মা নদীর আকসেদ এর মোড়ে গত তিন বছর আগে ব্লক ধ্বসে গেলেও আজ পর্যন্ত মেরামত করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এবারের বন্যায় নতুন করে আবারো বেশ কিছু অংশ নদীতে ধ্বসে গেছে। এতে বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীরা।
আকছেদ মোড় এলাকার বাসিন্দা সাজদার খাঁ ও ফারুক আলম জানান, আকসেদ মোড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গছে, বাঁধ ভাঙ্গার আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে তীর সংরক্ষণের ব্লক ধ্বসে গেলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এছাড়ও নুরুল্লাপুরের দুটি স্থানে নতুন করে বাঁধ ভাঙ্গা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ৭৩মিটার মাটির বাঁধ ভাঙ্গা শুরু হলেও এবার ভাঙ্গনের বেশি ভয়াবাহ দেখা দিয়েছে। বাঁধের ছোট বড় গাছ বিলিন হয়েগেছে নদী গর্ভে। এছাড়া দুইদিনে আকছেদ মোড়ে বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার ধ্বসে গেছে।
নুরুল্লাপুর এলাকার মনিরুল ইসলাম ও বিপুল নামে দুই বাসিন্দা জানান, গত পাঁচ বছর ধরে পদ্মা নদীর ঢেউ থেকে বাঁচানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বারবার স্থানীয় এমপি, উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে কোন কাজ হয়নি। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি। বাঁধ ভাঙ্গলে বাড়ি ঘর বিলিন হয়ে যাবে।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আল আসাদ জানান, সম্প্রতি পদ্মা নদীর তিনটি ভাঙ্গন এলাকায় পরিদর্শন করেছি, আকসেদের মোড়ে ব্লক ধ্বসে যাওয়া ঠেকাতে ২৫০বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া নুরুল্লাহপুরে পদ্মা পানি নেমে গেলে নতুন করে প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। সামনে মৌসুমের আগেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন পদ্মার তীরবর্তী মানুষেরা।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top