logo
news image

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিয়্যাক্টর নির্মাণে অগ্রগতি

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাশিয়ায় এইএম টেকনোলজি এটোমাশ-এর ভলগাদন্স্ক শাখায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ১ নম্বর ইউনিটের জন্য নির্মীয়মান রিয়্যাক্টরের উপরের সেমি-ভেসেলের সংযোজন কাজ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। রুশ রাষ্ট্রিয় পারমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের যন্ত্র নির্মাণ বিভাগ- এটমএনার্গোমাশের অধীনস্থ কারখানাটি রূপপুর প্রকল্পের দুটি ইউনিটের জন্য রিয়্যাক্টর, স্টীম জেনারেটর সেট এবং টার্বাইন আইল্যান্ডের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করছে।
রসাটম প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়্যাক্টরের কাঠামোটি দুটি শেল এবং একটি ফ্যান্জ দ্বারা গঠিত। শেলগুলো একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সংযোজন করা হয়; যন্ত্রটির উত্তোলন ক্ষমতা ১৮০ টন। পরে রিয়্যাক্টর সেমি-ভেসেলটি একটি ওয়েল্ডিং ইউনিটের উপর স্থাপন করা হয়, যেখানে এটির বিশেষ অংশে প্রয়োজনীয় ক্ষয়রোধী প্রলেপ ও ওয়েল্ডিং এর কাজ সম্পন্ন হয়। শুধুমাত্র ক্ষয়রোধী প্রলেপ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয় প্রায় ৩০০ কেজি তার এবং ৪০০ কেজি ফাক্স। ।   
রিয়্যাক্টর মূলত একটি উল্লম্ব সিলিন্ডার আকৃতির ভেসেল বা আধার যার তলদেশ উপবৃত্তাকার। ভেসেলের ভিতর অবস্থান করে রিয়্যাক্টরের কোর এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি। এটির উপরিভাগ একটি ঢাকনা দ্বারা দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। রিয়্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন ডিভাইস এবং মেকানিজম ঢাকনাটিতে ইনস্টল করা থাকে। এছাড়াও অভ্যন্তরিণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসকল ডিটেকটর রয়েছে সেগুলোর ক্যাবেল বের হওয়ার জন্য ঢাকনাটিতে রয়েছে নির্গমন নল।
ভেসেলের উপরের অংশে অবস্থিত বিভিন্ন নলের সাহায্যে ভিতরে কুল্যান্ট বা শীতলকারী পদার্থ প্রবেশ ও নির্গমনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভেসেলের ভিতরে অবস্থিত সার্কিটে লিকের কারণে চাপ কমতে থাকলে জরুরী ভিত্তিতে কুল্যান্ট সরবরাহের জন্য আলাদা নলের ব্যবস্থাও রয়েছে এই অংশটিতে।

এদিকে রূপপুর প্রকল্পের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা অলোক চক্রবর্তি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল গত ২৭ আগস্ট রাশিয়ার এইএম টেকনোলজির ভলগাদন্সক কারখানা পরিদর্শন করেন। এসময় কারখানায় কর্মরত প্রকৌশলীসহ অন্যান্য শ্রমিকদের দতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে ইয়াফেস ওসমান বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে সময় নির্ধারন করা হয়েছে, তা যে সর্বোচ্চ কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হয়েছি। কাজের মান নিয়েও কোনও প্রশ্ন নেই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশ একটি যথাযত ও উচ্চমানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পেতে যাচ্ছে”। রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস. এম. সাইফুল হক, মন্ত্রনালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত ছিলেন
প্রসঙ্গত: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা প্রণায়ন ও বাস্তবায়ন করছে রসাটম। কেন্দ্রটিতে ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর ভিত্তিক দুটি ইউনিট স্থাপন করা হবে, প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। রিয়্যাক্টরের জীবনকাল ৬০ বছর তবে তা আরো ২০ বছর বৃদ্ধি করার সুযোগ থাকবে। প্রথম ইউনিটটি ২০২৩ এবং দ্বিতীয়টি ২০২৪ সালে উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য