logo
news image

লালপুর বাজারে জলাবদ্ধতা: ভোগান্তিতে ৫ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
নাটোরের লালপুর উপজেলার লালপুর মডেল বাজার ও এর আশে পাশের মহল্লা গত চার মাস ধরে জলাবদ্ধ রয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এ এলাকার দুটি রাস্তা ও বাড়িঘর পানিতে ভাসছে। আটকা পড়েছে পাঁচ হাজার মানুষ। চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে লালপুর মডেল বাজার ও বাজারের উত্তরের মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, বাজারের কাঁচা বাজারে এক হাঁটু পানি জমে আছে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। ক্রেতা বিক্রেতার আনাগোনা নাই বললেই চলে। তিনটি টিনশেডের একটিতে মাছ, একটিতে মাংস ও অন্যটিতে চালের দোকান রয়েছে। এসব টিনশেডে পৌঁছতে হাঁটু পানি পাড়ি দিতে হচ্ছে। বাজারের উত্তর প্রান্ত থেকে দুটি পাকা রাস্তা পুরাতন বাজার হয়ে বুধপাড়া কালিবাড়ি পর্যন্ত গেছে। পুরো রাস্তা পানির নিচে। ছয়মাথা থেকে সাহেদের বাড়ি পর্যন্ত পাকা রাস্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেল না। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় দুটি রাস্তার কার্পেটিং অনেক আগেই উঠে গেছে। এখন ইটের খোয়াও হারিয়ে যাচ্ছে। শিশুরা রাস্তার ওপর মাছ শিকার করছে।
বাজারের পুরাতন ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন জানান, বছর দশেক আগেও লালপুর বাজার ছিল উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার। সরকার একে মডেল বাজার করেছে। কিন্তু বাজারের পানি বের হয়ে যাওয়ার কার্যকর কোনো নালা নাই। ফলে বৃষ্টির পানি জমে স্থায়ী জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় লোকজন রাগ করে বাজারে আসেন না। তাই ব্যবসাবাণিজ্যে ভাটা পড়েছে। জিনিসের জন্য ফোন করলে ক্রেতার বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসতে হয়।
বাজারের পাশের বাসিন্দা সৌমিত্র সরকার জানান,বাজারের পানি পদ্মা নদীতে বের করে দেওয়ার জন্য আশির দশকে বড় ড্রেন করেছিল সরকার। সেই ড্রেন প্রভাবশালীরা দখল করে ভরাট করে ফেলেছে। তাই একদিন বৃষ্টি হলে সেই পানি এক মাসেও শুকায় না। আশে পাশের মহল্লাও বাজারের পানিতে ভাসছে। স্থায়ী সমাধান করতে হলে বড় ড্রেন আবার সক্রিয় করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি স্থানীয় সাংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু সমাধান হচ্ছে না।
বাজারের উত্তর পাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী শাহিনূর ইসলাম বলেন,পানি বের হওয়ার ড্রেন না থাকায় আমরা গত দশ বছর ধরে বছরের অন্তত চার মাস পানিতে ভাসছি। ছেলে মেয়েদের স্কুলে যাতায়াত বন্ধ,বেচাকেনা বন্ধ। এমনকি আত্মীয়স্বজনদের আসাযাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসক বাড়িতে আসেন না। রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয় না। আমাদের কষ্ট যেন দেখার কেউ নাই !
লালপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, লালপুর বাজারের জলাবদ্ধতার প্রকট সমস্যা রয়েছে। সমাধান করার জন্য বড় ধরণের বরাদ্দ দরকার। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, লালপুর বাজার ও আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতায় ভোগান্তির কথা তিনি শুনেছেন।  সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।  এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেবেন। 

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top