logo
news image

অত্যাধুনিক পারমাণবিক আইসব্রেকার উদ্বোধন করল রাশিয়া

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গত শনিবার  রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের বালটিক শীপইয়ার্ডে পরমাণু শক্তি চালিত অত্যাধুনিক আইসব্রেকার ‘উরাল’ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে আইসব্রেকারটির মালিক প্রতিষ্ঠান রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রসাটম সারাবছর ধরে নর্দার্ন সী রুটে নৌ চালনা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
রসাটমের তথাকথিত ২২২২০ প্রকল্পের অধিনে পরিকল্পনাধীন ৩টি আইসব্রেকারের প্রথম হচ্ছে এই উরাল। বাকী দুটি আইসব্রেকার ‘আর্কটিক’ এবং ‘সিবির’ যুক্ত হলে এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম ও শক্তিশালী আইসব্রেকার বহর।
১৭৩ মিটার দীর্ঘ আইসব্রেকারটিতে প্রথমবারের মতো বসানো হয়েছে দুটি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও কমপ্যাক্ট আরআইটিএম-২০০ পারমাণবিক রিয়্যাক্টর, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫০ মেগাওয়াট। আইসব্রেকারটি ৩ মিটার পুরু বরফ কেটে অগ্রসর হতে সক্ষম। আইসব্রেকারটির আরও একটি অনন্য বৈশিষ্ট হলো এর ডাবল ড্রাফট ডিজাইন। এর ফলে প্রয়োজন অনুসারে ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক সমন্বয়ের মাধ্যমে জাহাজের ড্রাফট পরিবর্তন করে আর্কটিক সাগর বা অগভীর জলপথে চলাচল করতে সক্ষম। আইসব্রেকারটিতে ব্যবহৃত আরআইটিএম-২০০ পারমাণবিক রিয়্যাক্টর ভবিষ্যতে ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে রসাটম।
উরালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, “সারা বছর ধরে নর্দার্ন সী রুটে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের কৌশলগত প্রকল্পের কেন্দ্রে রয়েছে উরাল এবং এর সহযোগী আইসব্রেকারগুলো। আমাদের লক্ষ্য হলো ২০২৪ সাল নাগাদ নর্দার্ন সী রুটে ৮ কোটি মেট্রিক টন মালামাল পরিবহন। ২০২৭ সাল নাগাদ ২২২২০ প্রকল্পের অধীনে আমরা আরও দুটি পারমাণবিক আইসব্রেকারের পরিকল্পনা করছি। এগুলোর নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ সম্পাদিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
রসাটম যে ৮ কোটি মেট্রিক টন মালামাল পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে তার মধ্যে রয়েছে ৪.৭ কোটি মেট্রিক টন প্রাকৃতিক গ্যাস, ২.৩ কোটি মেট্রিক টন কয়লা, ৫০ লক্ষ টন তেল, ৫০ লক্ষ টন ভারি শিল্প মালামাল ও যন্ত্রপাতি এবং ১০ লক্ষ টন মেটাল।
নর্দার্ন সী রুট অবকাঠামো উন্নয়নে রসাটম রুশ সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য