logo
news image

নাটোরে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর।  ।  
৫৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্প কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শহরের বনবেলঘরিয়া বাইপাস থেকে শহর হয়ে বড়হরিশপুর বাইপাস পর্যন্ত ৫.৮৬ কিলোমিটার সড়কের মাঝখানে চার ফুট ডিভাইডারসহ উভয় দিকে ১৮ ফুট করে প্রশস্ত সড়ক এবং সড়কের উভয় পাশে চার ফুট করে ড্রেন কাম ফুটপাত।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর দ্রুততার সাথে কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রতিদিন রাস্তার কয়েকটি স্থানে কয়েকশত করে জনবল কাজ করছে। ইতোমধ্যে ড্রেন কাম ফুটপাতের নির্মাণ কাজ শেষের পথে রয়েছে। বর্তমানে যুগপৎভাবে চলছে রাস্তা ও ডিভাইডার নির্মাণের কাজ। রাস্তা ও ডিভাইডার নির্মাণ কাজের প্রায় দুই কিলোমিটার শেষ হয়েছে। নাটোর প্রেসক্লাব এলাকাসহ রাস্তার কিছু অংশ চার লেন পর্যন্ত প্রশস্ত হবে বলে সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাভেদুর রহমান বলেন, প্রকল্পাধীন রাস্তার দু’ধারে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১৯৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের জন্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, নাটোরকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রাস্তার পাশে থাকা পানির লাইন স্থানান্তরের জন্যে নাটোর পৌরসভাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
নাটোর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ টি এম মহিউদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে খুঁটি স্থানান্তরের বেশীরভাগ কাজ শেষ হয়েছে। পানির লাইন স্থানান্তরের জন্যে পদক্ষেপ হিসেবে গৃহিত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন নাটোর পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল।
’৮০’র দশক থেকে শহরবাসীর কাছে সবচেয়ে কাংখিত ছিল শহরের মধ্যেকার প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ। বর্তমানে বাস্তবে এই কাজ শুরু হয়ে দ্রুত এগিয়ে চলায় শহরবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অত্যন্ত আনন্দিত শহরের মানুষেরা মনে করেন, এরফলে শহরের নিত্যদিনের যানজট সমস্যার সমাধান হবে এবং মানুষের মূল্যবান কর্মঘন্টার অপচয় রোধ হবে।
নাটোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি মোঃ আমিনুল হক বলেন, প্রশস্ত সড়ককে কেন্দ্র করে নাটোরের অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনার উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হবে। চলমান ব্যবসা বাণিজ্যে গতিশীলতা আসবে, বৃদ্ধি পাবে এর পরিসর। জীবনযাত্রার মান উন্ন্য়ন হবে।
নাটোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নাফ বলেন, শহরের প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম শেষ হলে জেলা শহরে বাঁশের ডিভাইডার দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের দুর্নাম ঘুচবে। শহর হয়ে উঠবে নান্দনিক।
রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী এম.এ. মুঈদ বলেন, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে শহরে চলাচলকারী মানুষের নির্বিঘœ যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যের পরিধিও বাড়বে। তবে উভয় দিকে থাকা পৌরসভার রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা হলে সুফলের পরিধি হবে শতভাগ। এজন্য পৌরসভার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই মতামত জানিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাজেদুল আলম খান বুড়া চৌধুরী বলেন, কলকাতার সমসাময়িক পুরনো নাটোর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় রাস্তাগুলোর প্রশস্তকরণ এখন সময়ের দাবি।
নাটোর পৌরসভার মেয়র ঊমা চৌধুরী জলি বলেন, পৌরসভার রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
নাটোর জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিকর্ণ কুমার চৌধুরী বলেন, শহরের প্রধান সড়ক প্রশস্ত হলে অনায়াসে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, মানুষের চলাচল হবে নির্বিঘ্ন।
প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে দ্রুততার সাথে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান প্রকল্পের ঠিকাদার মীর আমিরুল ইসলাম জাহান।
নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, শহরের প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি নাটোর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় রুপান্তর এবং টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট নির্মাণ কাজ এখন শেষের পথে। নাটোর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, রাণীভবানী রাজবাড়ীতে যাদুঘর কমপ্লেক্স, উত্তরা গণভবন কেন্দ্রিক প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নারদ নদ সংস্কার করতে পারলে সকলের কাছে ঐতিহ্যবাহী নাটোর হবে পর্যটন শহর।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top