logo
news image

পশ্চিম রেলের পাকশী বিভাগের বৃহত্তম ঈশ্বরদী লোকোমোটিভে জনবল সংকট চরমে

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের বৃহত্তম ঈশ্বরদী জংশনের রেলওয়ে লোকোমোটিভে (ব্রডগেজ) জনবল সংকটের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। এভাবেই বিগত কয়েক বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই লোকোমোটিভ খুড়িয়ে খুড়িয়ে চললেও নতুন লোক নিয়োগে কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে না।
লোকোমোটিভ সূত্র জানায়, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলী  (ডিএমই /লোকো) এর অধীনে এখানে ইঞ্জিনের (পাওয়ার) মেরামত ও জ্বালানী সরবরাহের ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পাকশী বিভাগে রেলওয়ের কর্মকান্ড এবং ট্রেন চলাচলের জন্য ইঞ্জিনের (পাওয়ার) সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এই লোকোটোটিভে বাড়ানো হয়নি জনবল। বরঞ্চ বরাদ্দকৃত জনবলের অনেকে অবসর গ্রহন করলেও ওই শুণ্য পদে কোন লোক নিয়োগ না দেয়ায় এই অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, এই লোকোমোটিভে কর্মকর্তার মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ২৩ জন। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৮ জন। ফিটিংস্ কর্মচারীর (ফিটার) মঞ্জুরীকৃত পদ ১১৮ জন। এই পদে মাত্র ৪৫ জন জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া লোকো মাষ্টার ও ফিটিংস্ ষ্টাফদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য ‘ওয়ার্কশপ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ এর ট্রেনিং অফিসার ফেব্রুয়ারীতে অবসরে যাচ্ছেন। এখানকার ২ জন ইন্সট্রাকটরে ১জন ঢাকায় এবং অপরজন ইতোমধ্যে খুলনায় বদলী হয়েছেন। এই প্রতষ্ঠিানটি বর্তমানে ১জন প্রধান সহকারী এবং টুলস্ কীপার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে লোকোটিভের ইনচার্জ নিশ্চিত করেছেন।
এব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলী  (ডিএমই /লোকো) শেখ হাসানুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনবল সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওভারটাইম করিয়ে কোন রকমে কাজ চালানো হচ্ছে। ৮৫০ জন খালাসী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। খালাসী পদে নিয়োগ চুড়ান্ত হলে সমস্যা আংশিক কমতে পারে। তবে কর্মকর্তার টেকনিক্যাল পদে সমস্যা থেকেই যাবে।  উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা হওয়ায়  এই পদে নিয়োগ পিএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগ হয়। এসব পদে নিয়োগের উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। ডিএমই আরো বলেন, ১৯৮৫ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ঈশ্বরদী রেলওয়ে লোকোমোটিভে উল্লেখিত পদ সৃষ্ট হয়। ওই সময়ের তুলনায় এখন দ্বিগুণের বেশী ট্রেন চলাচল কর।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) জানান, এই বিভাগে বর্তমানে ১০২৮ কিলোমিটার ব্যাপী রেলপথে প্রতিদিন ১১৫টি ট্রেন চলাচল করছে। চরম জনবল সংকটের মধ্যেই আন্তঃনগর, মৈত্রি এক্সপ্রেস, মেইল ট্রেন, লোকাল ট্রেন এবং গুডস ট্রেন চলাচলে প্রতিনয়ত কোন না কোন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।  নিম্ন পদে কিছু কিছু লোক নিয়োগ হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শুণ্যতা রয়েছে বলে তিনি জানিযেছেন।
রেল লাইন সম্প্রসারণ এবং ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ঈশ্বরদী রেলওয়ে লোকোমোটিভে সৃষ্ট পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করাতো দূরের কথা শুণ্য পদেই লোক নিয়োগ হচ্ছে না।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য