logo
news image

সিংড়ায় জমজমাট গ্রামীণ মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর।  ।  
ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বইমেলা ইত্যাদি আয়োজনকে উপলক্ষ্য করে নাটোরে জমজমাটভাবে চলছে গ্রামীণ মেলা। গ্রামীণ জনপদে মেলা ছাড়া এসব অনুষ্ঠান যেন পূর্ণতাই পায় না। দেশীয় সব মুখোরচক খাবার আর হরেক রকম প্রসাধনীর পসরা নিয়েই মূলত: গ্রামীণ মেলার আয়োজন। একদিন বা অল্প ক’দিনের এসব গ্রামীণ মেলায় ভ্রাম্যমান দোকান বসিয়ে লাভবান হচ্ছেন অসংখ্য ব্যবসায়ী।
শীতের মৌসুমে মসজিদ মাদ্রাসা ভিত্তিক ওয়াজ মাহফিলে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রামীণ জনপদ। শহরেও কমবেশী আয়োজিত হচ্ছে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। মাজার ভিত্তিক ওরশ মাহফিলও আয়োজিত হতে দেখা যায়। দোল যাত্রা, কালী পূজা, চরক পূজাও পায় উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় এসব অনুষ্ঠান ছাড়াও বইমেলা, নৌকা বাইচ, ঘোড়া দৌড় বা অন্য কোন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে গ্রামীণ মেলা যেন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।
সিংড়া উপজেলার প্রসিদ্ধ বড়সাঁঐল কাশফুল উলুম মাদ্রাসায় সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি)  রাতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ওয়াজ মাহফিল। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই বিটিবিএম ফুটবল মাঠ জুড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। শতাধিক ব্যবসায়ী আর তাদের ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এ মাঠ। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তত: দশ লাখ টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়েছে এ মেলায়।
শতাধিক দোকানের মধ্যে বেশীরভাগটাই খাবারের। এছাড়া ছিল বই, পোষ্টার, প্রসাধনী, লোহা ও কাঠের কিছু সামগ্রীর দোকান। অনেকগুলো চটপটি-ফুচকার দোকানের মধ্যে ভ্যানে পণ্য সাজিয়ে দোকান করেন কালিগঞ্জ বাজার এলাকার প্রায় ৩০ বছরের ব্যবসায়ী রুবেল। রুবেল জানান, মেলায় বিক্রি প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। মেলায় প্রায় চার মণ আলুর চিপস বিক্রি করেছেন রজব আলী।
বিটিবিএম কলেজের শিক্ষকদের দেখা গেল কলেজ প্রাঙ্গনে বসে সবাই মিলে জিলাপী খেতে। কম্পিউটার অপারেশন বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস শামীম বলেন, মেলার জিলাপীর স্বাদই আলাদা, অনেক সুস্বাদু।
পিয়াজী, ছোলা, চিড়া ভাজা, ডাল ভাজা, চানাচুরসহ ১২টি সামগ্রীর দোকান দেন সিংড়া দমদমা এলাকার জহুরুল ইসলাম। পণ্য বিপণনে সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি। সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রসাধনী ব্যবসায়ী রিপন ও নাজমুল।
কলম বাজারে ব্যবসায়ী রিপনের প্রসাধনীর দোকান আছে। মেলার খোঁজ পেলেই অংশ নেন বলে জানান তিনি। মেলা চলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে আষাঢ় পর্যন্ত। জহুরুল ইসলাম বছরে ৫০টি মেলায় অংশগ্রহণ করেন বলে জানান।
বিটিবিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। একসাথে অনেক ক্রেতা ও অধিক মুনাফার কারণে তারা মেলায় আসেন।
ওয়াজ মাহফিল এলাকার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী ছাড়াও বাইরে অবস্থানকারী গ্রামের বাসিন্দা এবং বাইরে বিয়ে হওয়া গ্রামের মেয়েরা তাদের পরিবারবর্গসহ মাহফিলে আসেন ও মেলায় কেনাকাটা করেন বলে জানান বড়সাঁঐল কাশফুল উলুম মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান খোকন।
নাটোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি মোঃ আমিনুল হক বলেন, গ্রামীণ মেলা আমাদের ঐতিহ্য। গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এর অনন্য ভূমিকা রয়েছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top