logo
news image

১২৫তম দেশে বাংলাদেশ তুলে ধরলেন নাজমুন

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
লাল সবুজের পতাকা হাতে বিশ্ব মানচিত্রের ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন বাংলাদেশের নারী নাজমুন নাহার। এবারের তিন মাস সফরে টানা সড়ক পথে ভ্রমণ করেন পশ্চিম আফ্রিকার ১৫টি দেশ। সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে সড়ক পথে তিনি পৌঁছান নাইজেরিয়ার লাগোস শহরে।
নাজমুন নাহার তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, আরেকটি শীর্ষ জয়ে বাংলাদেশ!
কোটি প্রাণের লাল সবুজের পতাকা হাতে আজ পূর্ণ হলো দেশ ভ্রমণের আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ড! ১২৫ দেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাকে নিয়েছি সর্বোচ্চ উচ্চতায়! গত তিন মাসের সড়ক পথের কঠিন সফর শেষ হলো আজ! ১৩ জানুয়ারী রোববার বিকেল পাঁচটায় বাদাগরি হয়ে নাইজেরিয়ার সীমান্তবর্তী সেমে বর্ডার ক্রস করে নাইজেরিয়ায় উড়াই বাংলাদেশের পতাকা!
লাল সবুজের পতাকা মাথায় বেঁধে আমি এখন আফ্রিকার আকাশে উড়ছি! পশ্চিম আফ্রিকার ১৫ টি দেশে সড়ক পথে ভ্রমণের ফলে আমার শরীরে ক্লান্তির অবকাশ এলেও আমি আবার নতুন করে জেগে উঠেছি নতুন প্রাণে! পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম দেশ গুলো জয় করতে পেরে আজ আমি অনেক আনন্দিত! আফ্রিকা থেকে আজকের ১২৫ দেশ জয়ের এই আনন্দ আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য!
এ ভ্রমন যাত্রায় অনেক কষ্ট হলো, কিন্তু শিখেছি অনেক, দেখেছি অনেক!
পনেরো দেশে সড়ক পথে কয়েক শত শত ঘন্টার জার্নি একা একা! ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়েছি, কখন টানা ২৬ ঘন্টা না খেয়ে ছিলাম, মাটির মধ্যে ঘুমিয়েছি ! কখনো ইয়াম আলু, কখন হোয়াইট অরেঞ্জ খেয়ে থেকেছি! বিপদসংকুল জায়গা গুলোতে কখনো কখনো কোনো হৃদয়বান ব্যাক্তি ভোরের অন্ধকারে আমাকে সীমান্ত এলাকা পার করে দিতে সাহায্য করেছে! যেখানেই যার সাথে পরিচয় হয়েছে কোনো সমস্যায় পড়েছি কেউ আমাকে বিপদে ফেলেনি বরং সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন!
বিভিন্ন শহরে প্রায় তেরোটি লোকাল ফ্যামিলির সাথে থেকেছি, যা আমাকে আফ্রিকার জীবন যাত্রার নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে! খুব কাছ থেকে তাদের সংষ্কৃতিকে জানতে পেরেছি! তারা যত গরীবই হোক না কেন যেখানেই গিয়েছি সবাই হাসিমুখে বলেছে- 'ইউ আর ওয়েলকাম'! আমার মতো সকল বিদেশী মুসাফিরের প্রতি তাদের ভালবাসা-সম্মান আন্তরিকতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি! কিন্তু এই পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণ না করলে আমার দেখা হতো না মানুষের বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতা! অনেক দুর্গম জায়গায় দেখেছি শিশুর শরীর ধুলোমাখা, পরনে কাপড় নেই, খাবারের অভাব, কিশোরীর শরীরে এক টুকরো কাপড় ওই দৃশ্য আমাকে কাঁদিয়েছে! আরও কাঁদিয়েছে যখন ওদের ইতিহাসকে খুব কাছ থেকে জানতে পেরেছি, ওদেরকে যখন একসময় জাহাজে করে ছোট ছোট বাক্সে ভরে কৃতদাস হিসেবে নিয়ে যাওয়া হতো বিভিন্ন দেশে, মরে গেলে জাহাজ থেকে ফেলে দেয়া হতো! সেই নির্মমতার স্বীকার হয়েছিল এই আফ্রিকানরা!
তাদের জীবনের অনেক গল্প! আমাকে উৎসাহ দিয়েছে ওদের জীবন যাত্রা! ওরা অনেক কঠিন পরিশ্রম করে! আমি বুরকিনা ফাসো, ঘানা, টোগো, বেনিনে দেখেছি অনেক মেয়েরা পেছনে বাচ্চাকে
বেঁধে বাইক চালাচ্ছে, তার মাথায় আবার বোঝা, তার জীবন থেমে নেই! চলছে! আমি ভাবতে শিখছি বার বার আমরা সবাই এক পৃথিবীর মানুষ! সব কিছুর মাঝেই আমি সবচেয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখেছি মরুভুমি ও গোল্ড কোস্ট লাইনের দেশগুলিতে!

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top