logo
news image

বড়াইগ্রামে মাছ ধরার উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়াইগ্রাম (নাটোর)।  ।  
শুকনো মৌসুমে বিলের পানি নামতে শুরু করেছে। আর এ সুযোগে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চিনাডাঙ্গার বিলে মাছ ধরার আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছেন বাউত উৎসবে অংশগ্রহণ করা হাজারো মানুষ। শনিবার (৫ জানুয়ারি) ভোরেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শৌখিন মাছ শিকারিদের সঙ্গে উৎসুক দর্শকদের ভিড় বাড়ে বিলের চতুর্দিকে। অনেকটা উৎসব উদযাপনের মতো পলো দিয়ে মাছ ধরে আনন্দ উপভোগ করেছে তারা।
শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় বিলের পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমে যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ কম পানিতে গিয়ে জমেছে। পলো দিয়ে সেই মাছ ধরতে সবাই নেমেছে বিলে। স্থানীয় ভাবে পরিচিত বাউত উৎসবে এভাবে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। এ জন্য বড়াইগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার শত শত মানুষ বাউত উৎসবে যোগ দেন। ভোর থেকে শুরু করে সকাল ১০টা পর্যন্ত নছিমন, করিমন, সিএনজি, অটোভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলে আবার কেউ বা হেঁটে রওনা হন বিলের উদ্দেশে। তাদের হাতে ছিল পলো, চাকপলো, নেটপলোসহ মাছ ধরার নানা সরঞ্জাম। বিলপাড়ে সমবেত হওয়ার পর একসঙ্গে বিলে নেমে মাছ ধরার আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের মধ্যে শোল, রুই, বোয়াল, কাতলা মাছ পলোতে আটকা পড়ছে। উৎসবে অংশ নেওয়া অনেকেই রুই-কাতলা মাছ ধরতে পেরে যেন আনন্দে আত্মহারা। আবার কেউ কেউ মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। পাশের শ্রীরামপুর থেকে আসা শরীফ উদ্দিন বলেন, লোকমুখে পলো দিয়ে মাছ শিকারের কথা শুনে সাতসকালেই পলো নিয়ে এসেছি। একটি বড় আকারের কাতলা মাছ ধরতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। আরেক শৌখিন মাছ শিকারি শিধুলী গ্রামে শ্রী বিমল বলেন, শখের বশে পলো বাইতে এসেছি। একটি রুই পেয়েছি. মাছটি কত বড় সেটা বড় বিষয় নয়। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাউত উৎসবে অংশ নিতে পেরেছি এটিই আনন্দের।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top