logo
news image

নাটোর-১ আসনের ইতিহাস বদলে দিলেন বকুল

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
প্রথম জাতীয় সংসদ (১৯৭৩-১৯৭৫) নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ তারিখে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডাঃ আলাউদ্দিন (বাঘা) নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। এরপর রাজশাহীর লালপুর-চারঘাট নির্বাচনি আসন থেকে পৃথক হয়ে চারঘাট থেকে লালপুর থানা আলাদা হলে লালপুর-বাগাতিপাড়া মিলে একটি আলাদা সংসদীয় আসন সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী এ আসনে প্রত্যক্ষ ভোটে নৌকা প্রতীকে জয় লাভ করতে পারেনি।
রোববার (৩০ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রথম ৫৮ নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুল নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন।  তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী কামরুন নাহার শিরিন ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৩৮ ভোট।  এছাড়া জাতীয় পার্টির আবু তালহা লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৩৯ ভোট, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের প্রাথী খালেকুজ্জামান হাতপাখা প্রতীকে ১ হাজার ১৮৯ ভোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাকসুদুর রহমান হারিকেন প্রতীকে ৭৬৬ ভোট এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির আনছার আলী দুলাল কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ৬১৯ ভোট।  
এরশাদ আমলে ১৯৮৪ সালে নাটোর মহকুমাকে জেলায় রুপান্তরিত করার আগে লালপুর-চারঘাট থানা রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত একটি নির্বাচনি এলাকা হিসেবে বিন্যস্ত ছিল। লালপুরের জাতীয় নির্বাচনের ইতিহাসে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নাটোর-১ (লালপুর- বাগাতিপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত কোন প্রাথী বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হতে পারেন নি। ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে পুর্ব বাংলায় ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে বঙ্গীয় আইন সভায় এ আসনের সদস্য কারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তা এখন গবেষনা সাপেক্ষ বিষয়। তবে ব্রিটিশ শাসনের শেষ সময়ে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি (বঙ্গীয় আইন পরিষদ) এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ১৯-২২ মার্চ। নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে সংখ্যালঘু হিন্দু আসনে (লালপুর-চারঘাট) বৃটিশ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের অগ্নীযুগের নেতা, ১৯২১ সালের বিলমাড়ীয়ার নীলপ্রজা বিদ্রোহের নায়ক বিপ্লবী প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী (১৮৯৩-১৯৭৪, আড়ানী, বাঘা) নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি বা বঙ্গীয় আইন পরিষদ (১৯৫৪-১৯৫৮) এর বৃহত্তর রাজশাহীর (লালপুর-চারঘাট) মুসলিম আসনে আতাউর রহমান (১৯২৫-১৯৮০) গনতন্ত্রী পার্টির নেতা হয়েও সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যুক্তফ্রন্টের নৌকা প্রতীক ছাড়াই কুড়েঘর মার্কা নিয়ে জয়ী হন এবং একই বছর রাজশাহীর (লালপুর-চারঘাট) হিন্দু আসনে সংখ্যালঘু যুক্তফ্রণ্টের প্রার্থী হিসেবে আড়ানীর শ্রীযুক্ত প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী নির্বাচিত হন। একই বছর ৩ এপ্রিল গঠিত শের-ই-বাংলা ফজলুল হকের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা ২৯ মে/৩১ মে ষড়যন্ত্র করে বাতিল করা হলে পরের বছর ১৯৫৫ সালের ৬ জুন গঠিত আবু হোসেন সরকারের মন্ত্রী সভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান শ্রীযুক্ত প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী। ১৯৬২ সালের আইউবি সংবিধান অনুসারে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ (১৯৬২-১৯৬৫) ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রীদের দ্বারা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়। এ সংসদে এ টি এম মোস্তফা সংসদ নেতা, আখতার উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলীয় নেতা এবং নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে আব্দুল মালেক উকিল ছিলেন আওয়ামী লীগ গ্রুপের নেতা। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের ২ জানুয়ারি তারিখে দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দিলেও ১৯৭০ সালের পূর্বে দেশে কোন সাধারণ নির্বাচন হয়নি।
সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের অধীনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বৃহত্তর লালপুর-চারঘাট আসনে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সৈয়দ নজমুল হক (চারঘাট) এবং একই সময় প্রাদেশিক পরিষদে লালপুর-চারঘাট আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের জুল্লুর রহমান (লালপুর)। স্বাধীন বাংলাদেশে এ যাবত দশটি সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রথম জাতীয় সংসদ (১৯৭৩-১৯৭৫) নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ তারিখে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডাঃ আলাউদ্দিন (বাঘা) নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। এরপর রাজশাহীর লালপুর-চারঘাট নির্বাচনি আসন থেকে পৃথক হয়ে চারঘাট থেকে লালপুর থানা আলাদা হলে লালপুর-বাগাতিপাড়া মিলে একটি আলাদা সংসদীয় আসন সৃষ্টি হয়। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ (১৯৭৯-১৯৮২) নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নান (বাগাতিপাড়া) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সংসদের হুইপ নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ (১৯৮৬-১৯৮৭) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মমতাজ উদ্দিন (লালপুর) রিকসা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চতুর্থ জাতীয় সংসদ (১৯৮৮-১৯৯০) নির্বাচন হয় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতা নওশের আলী বাদশা (বাগাতিপাড়া) দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ (১৯৯১-১৯৯৬) নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত একতরফা ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ (১৯৯৬-১৯৯৬) নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম জাতীয় সংসদ (১৯৯৬-২০০১) নির্বাচন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ (২০০১-২০০৬) নির্বাচনে টানা চার বার বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমান পটল (লালপুর) ধানের শীষ প্রতিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালের ৬ জুন জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ উদ্দিনকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করলে নেতৃত্বের শুণ্যতা এবং দলীয় কোন্দলের জন্ম নেয়। এ কারণে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ (২০০৮-২০১৩) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের অন্যতম শরিকদলের হিস্যায় অংশিদারিত্বের দাবীতে জাতীয় পার্টি প্রার্থীতা লাভ করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এম এ তালহা (বাগাতিপাড়া) লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী ফজলুর রহমান পটলকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই সাথে আওয়ামী লীগ থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে শহীদ মমতাজ উদ্দিনের সহধর্মিণী শেফালী মমতাজ (লালপুর) কে সংসদ সদস্য মনোনীত করা হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদে (২০১৪-২০১৮) আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসাবে এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ (লালপুর) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Blog single photo
December 31, 2018

Moshiur rahman

ভোট ডাকাতি করে রেকর্ড ভাংগার মধ্যে কোন মহাত্ন নাই।

(0) Reply
Top