logo
news image

রেলের পাকশী অঞ্চলের ৪৫টিতে স্টেশন মাস্টার নেই

শাহ আলম সেলিম।  ।  
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে পাকশী অঞ্চলের প্রায় অর্ধশত রেলস্টেশন। এ অঞ্চলের ১১৪টি স্টেশনে মধ্যে ৪৫টিতে মাস্টার নেই। অন্যান্য জনবল সংকটও রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি স্টেশনে অটো সিগনাল ব্যবস্থা বিকল হয়ে রয়েছে। ফলে ট্রেনের মাথা দেখে সিগনাল দিতে হয়। এর ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে স্টেশনসংলগ্ন রেলগেটগুলো।
স্টেশন মাস্টার বিহীন ঝুঁকিপূর্ণ রেল স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম নাটোরের লালপুর উপজেলার আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন। প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও উত্তরের অর্ধশতাধিক ট্রেন এ স্টেশন ব্যবহার করে। অথচ এখানে ১২টি পদের বিপরীতে আছে মাত্র দুজন পয়েন্টসম্যান ও পোর্টার।
আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশন ও পাকশি বিভাগীয় অঞ্চল থেকে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর দুজন স্টেশন মাস্টারসহ মোট পাঁচজনকে বদলি করা হয়। এরপর থেকে পদগুলো খালি। সিগনাল ব্যবস্থাসহ টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ।
এদিকে সিগনাল ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় রেলগেটের অটোলক সিস্টেম অকার্যকর। চলছে এনালগ সিস্টেমে। স্টেশনের অদূরেই পশ্চিম পাশে রয়েছে ব্যস্ততম একটি রেলগেট। এ গেট দিয়ে প্রতি মিনিটে ৪০-৫০টি যানবাহন চলাচল করে। প্রতিদিন ট্রেন চলে ৬০-৬৫টি। সিগনাল বিকল থাকায় গেটম্যান ট্রেনের মাথা দেখে গেট বন্ধ করে।
গেটম্যান আশরাফ আলী জানান, এ গেটের উভয় পাশে দুটি কলেজ, পাঁচটি স্কুল এবং একপাশে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস ও উপজেলা পরিষদ অবস্থিত। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ গেটে সিগনাল বন্ধ থাকায় গেটের অটোলক কাজ করছে না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অন্য গেটম্যান বাবু জানান, সিগনাল বাতি না জ্বলায় খুব সমস্যা হচ্ছে। ট্রেনের দিকে চেয়ে থাকতে হয়। দ্রুতগামী ট্রেন হলে খুব ঝুঁকি থাকে। গেট বন্ধ করতে ১ থেকে ২ মিনিট লাগে, কিন্তু ট্রেন দেখা যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গেটে চলে আসে!
সরেজমিনে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের কম্পিউটার ও টেলিফোনগুলো বন্ধ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। ট্রেন সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য কাউকে পাচ্ছেন না যাত্রীরা। যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এখান থেকে স্টেশন মাস্টারসহ অন্য কর্মচারীদের বদলি করা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়। স্টেশন মাস্টার না থাকায় ট্রেনের সঠিক খবর পাওয়া যাচ্ছে না এবং টিকিট পেতেও অসুবিধা হচ্ছে।
নাটোর রেলস্টেশনের মাস্টার মনির হোসেন জানান, নাটোর জেলার মধ্যে মালঞ্চি, ইয়াছিনপুর, বাসুদেবপুর, আজিমনগর, রাজশাহীর নন্দনগাছি, পাকশি, কুষ্টিয়ার মীরপুর, নওগাঁর রানীনগরসহ অনেক স্টেশনে স্টেশন মাস্টার নেই। এছাড়া তদারকির অভাবে বেশির ভাগ স্টেশনেই সিগনাল বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু কিছু স্থানে গেটম্যানও নেই।
অন্যদিকে রেলের পাকশী অঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পাকশী অঞ্চলে স্টেশন রয়েছে ১১৪টি, এর মধ্যে আজিমনগরসহ ৪৫টি স্টেশনে স্টেশন মাস্টার নেই। লোকবল সংকটের কারণে আজিমনগরের স্টেশন মাস্টারসহ কয়েকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কবে নাগাদ জনবল দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে, তবে সঠিক সময় বলা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top