logo
news image

হাজার বছরের আড়ানী

মনোয়ার হোসেন রনি।  ।  
ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় আড়ানী অবস্থিত। ২০০৬ সালের ১ লা  জুন হতে প্রায় ১০.৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে পৌরসভা পরিচয়ে, আড়ানী পথ চলা শুরু করে ।আড়ানী ২৪০.২৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮০.৮৫'‌‌ দাঘিমাংশে অবস্থিত। অবস্থানগত কারণে যা নিকটবর্তী চার উপজেলার মধ্যমণি । জেলা শহর রাজশাহী হতে এর দূরুত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার এবং বাঘা উপজেলা হতে ১১ কিলোমিটার। আড়ানী হতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা : বাগাতিপাড়া ১২  কিলোমিটার, লালপুর ১৮ কিলোমিটার, চারঘাট ১৪ কিলোমিটার, পুঠিয়া ১০.৫  কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । আড়ানীর উত্তরে বড়াল নদী ও জামনগর ইউনিয়ন, দক্ষিণে তেথুলিয়া ও বাঘা উপজেলা , পূর্ব দিকে বাউসা ইউনিয়ন , পশ্চিমে বড়াল নদী ও চারঘাট উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও কালুহাটি গ্রাম।  আড়ানীতে সড়ক ও রেলপথে যাতায়াত করা যায়। কিছুকাল পূর্বেও এখানকার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ।  
আড়ানী শব্দের ‌আভিধানিক অর্থ ১.টানা পাখা ২.বড় ছাতা ৩.চন্দ্রাতপ ১,২। যেখানে আড়ানী শব্দটি মধ্যযুগীয় বাংলা হিসাবে স্থান পেয়েছে ১ । বাংলা ভাষায় মধ্যযুগ বলতে ১২০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কে বোঝান হয় ৯। তাহলে আমরা ধারণা করতেই পারি বড়াল নদীর তীরে আড়ানী জনপদ ১২০১- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ সময়ের মধ্যে গড়ে উঠেছে । আনুমানিক ১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে আড়ানীতে শুভ আগমন করেন মরহুম পীর এ কামেল হযরত আলহাজ্ব মাওলানা জহুরুল আলম বলখী সাহেব ১২। এ এলাকায় গড়ে উঠে নাটোরের মহারাণী ভবানী (১৭১৬-১৭৯৫) প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় চতুষ পাঠি ৭। ১৮৬৫ সালে পুঠিয়ার রাজা পরেশ নারায়ন মহোদয়ের Arani Aided Vernacular School এর স্বীকৃতির মাধ্যমে আড়ানীতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ৬। পরবর্তীতে পুঠিয়ার রানী মনোমোহিনীর নাম অনুসারে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় ৬। উক্ত বিদ্যালয়ে নাটোরের দীঘা পতিয়ার রাজা বসন্ত কুমার রায় বাহাদুর ভবণ নির্মাণ করে দেন ,যা বসন্ত কুমার ভবন নামে পরিচিত ৬। পীর সাহেবের আগমন, পুঠিয়া এবং নাটোর রাজ পরিবারের এহেন দান প্রীতি হতে ফুটে উঠে আড়ানীর গুরুত্ব এবং পুরাতন জনপদের প্রমাণ । সুশীল ও বয়োজ্যেষ্ঠদের থেকে  জানা যায়, পুঠিয়ার চার আনি রাজ্যের আধা আনি ছিল আড়ানী ১১, ধারণা বা অনুমান করা যেতে পারে  আধা আনি  হতেই আড়ানী নামের উৎপত্তি ১১ । আর আধা আনির  দশ আনি হতে দশানিপাড়ার ( বর্তমানে আড়ানী পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের জোতরঘু ) উৎপত্তি ১১ । এমনি করেই  জমিদারীর প্রভাবেই পিয়াদাপাড়া, গোচর নামের উৎপত্তি । এ অঞ্চলে  পুঠিয়া রাজার নিয়ন্ত্রণাধীন থেকে জমিদার বা ম্যানেজার হিসাবে খাজনা আদায় করতেন মনীন্দ্র চন্দ্র শাহা ১০, লোলিত মোহন দোবে, মহিন  চন্দ্র দোবে প্রমুখ ।
আড়ানীতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ছিলেন স্বর্গীয় বাবু প্রভাষ চন্দ্র লাহেড়ি৭ ( প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী) ও তাঁর সহোদর ভাই। আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মরহুম আব্দুস সাত্তার মাস্টার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও রাজশাহীর ভাষা আন্দোলনে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন । ১৯৫২ সালের ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারী ভূবন মোহন পার্কে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন ,“ নূরুল আমিন -আর তোমার রক্ষা নাই এইবার সাপের মতো ধরেছি তোমার গলা । তারপর তোমার বিষদাঁত ভাঙবো । তারপর খেলাতে খেলাতে তোমাকে ঝাঁপির মধ্যে পুরবো। নূরুল আমিন,তুমি কত রক্ত চাও ? দরকার হলে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য আমরা গ্যালনে গ্যালনে রক্ত দেব। ৪”
জনাব মোঃ আজাদ আলী, বীর প্রতীক সহ আড়ানীর উল্লেখযোগ্য অনেক ক্ষণজন্মা সাহসী বীর মুক্তিসেনা সক্রিয় ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন । বৃটিশ আমলে তৈরী বড়াল নদীর উপর  আড়ানী রেল ব্রীজ স্থানীয় দের নজর কাড়ে । শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ ব্রীজের সাথে । ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে  মোঃ আজাদ আলী বীর প্রতীকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ‘অপারেশন আড়ানী ব্রীজ’ সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন ৩। এ  অপারেশনে  আড়ানী রেল ব্রীজের কিছু অংশ ধবংস প্রাপ্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়। যার দরুন পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর যোগাযোগ ক্ষেত্রে অপূরনীয় ক্ষতি সাধিত  হয়।
স্বপ্নের ন্যায় বড়াল নদী সর্পিল আকারে একপাশ দিয়ে বয়ে গেছে । চারিদিকে সবুজের সমারোহ । সারি সারি আম গাছ, আর সুমিষ্ট আম সবার মন ভোলাতে বাধ্য । বট,কড়ই ,পাইকড় গাছের ছায়া ও সবুজের ঢেউয়ে নির্মল বায়ু মনে করিয়ে দেয় আড়ানী শব্দের আভিধানিক অর্থ টানা পাখা কিংবা বড় ছাতা। আড়ানীর সর্বত্র পাখিদের অভয় আশ্রম ।  আড়ানী-দীঘা রাস্তার পার্শ্বে জনাব মোঃ মুক্তার আলী , মেয়র আড়ানী পৌরসভা ও তাঁর ভাগভাগিদের বড় বাঁশের ঝাড় । সেখানেই গোধূলী হতে উষা পর্যন্ত বসে অসংখ্য পাখীদের গানের আসর। এছাড়া আড়ানী পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মরহুম মিজানুর রহমানের আমের বাগানে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথী পাখি আসে । বর্তমানে  স্থান দুটি সকলের মন কাড়ে ।সাধারণ জনগণ , স্থানীয় প্র্রশাসন , আইন শৃংখলা বাহিনী এবং  বন বিভাগ সম্মিলিত ভাবে এ বিষয়ে দেখভাল করে থাকেন ।
আড়ানীকে মানবসেবা ও আধ্যাত্মিকতায় অলংকৃত  করেছে মরহুম পীর এ কামেল হযরত আলহাজ্ব মাওলানা জহুরুল আলম বলখী সাহেব । ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্য বাগদাদ শহর হতে তিনি আনুমানিক ১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে আড়ানীতে আগমন করেন । আড়ানী কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ঈদ গাহের পাশে তাঁর দরগাহ শরীফ ।  শ্রী শ্রী কৃষ্ণ প্রসন্ন ক্ষ্যাপা বাবা ১৩১১ বঙ্গাব্দে আড়ানী আশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেন ৭। মানবসেবায় ক্ষ্যাপা বাবা অনন্য ছিলেন । তিনি ছিলেন সিদ্ধ বাক্য ঘৃণাজয়ী ও সংকীর্ণতা জয়ী । ঘাঁ -পুজ যুক্ত রক্ত চেটে তিনি রোগীকে সারিয়েছেন ।  পরবর্তীতে শ্রীমৎ পাগলা বাবা মহারাজ (শ্রী জিতেন্দ্রনাথ চৌধুরী ) আড়ানী কৃষ্ণ প্রসন্ন ক্ষ্যাপা বাবা আশ্রমের উৎকর্ষতা সাধন করেছেন এবং  সুচারুরুপে দেখভাল করছেন । ১৯৮৯ সালে শ্রীমৎ পাগলা বাবা অগণিত ভক্ত নিয়ে আড়ানী আশ্রম থেকে গঙ্গা জল , নগ্নপদ যাত্রা সহকারে পুঠিয়া বড় শিব মন্দিরে অর্পণ অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন । যা বর্তমানে ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের  নিকট ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ৫।
আমরা জাতীগত ভাবেই উৎসব ও আনন্দ প্রিয় । আড়ানীতে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকায় ছেয়ে যায় । সরকারি-বেসরকারি অফিস, বিদ্যালয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযথ মর্যদায় বিভিন্ন উৎসব মুখর কর্মসূচি গ্রহণ করে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কুশাবাড়ীয়া, জোতরঘু, গোচর, শাহাপুর, রুস্তমপুরের লাঠি খেলার দল তাদের কসরত প্রদর্শন করে । লাঠি খেলার বিশেষ বাদ্য আর তাদের হাঁক জানান দেয় উৎসবের, বাড়িয়ে দেয় আনন্দ । সার্বজনীন ভাবে নববর্ষ ,মঙ্গল শোভাযাত্রা , নবান্ন, পিঠা উৎসব, হালখাতা পালন আড়ানীর ঐতিহ্য । ক্ষ্যাপা বাবার আশ্রম কেন্দ্রীক গড়ে উঠা কীর্তনের দলের দেশ ব্যাপী কদর রয়েছে । এক্ষেত্রে স্বর্গীয় সরল দাসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  আড়ানীর শ্রী কৃষ্ণ প্রসন্ন ক্ষ্যাপা বাবার আশ্রম ও এলাকার বিভিন্ন যায়গায় অষ্ট প্রহর হতে শুরু করে টানা পাঁচ সাত দিন ব্যাপি চলে মহানাম যজ্ঞ , কৃষ্ণলীলা ও গুন কীর্তন । কীর্তনের পাশাপাশি চলে অতিথী আপ্যায়ন । মা মনষার গান ,পালা গান , লালন সহ ভক্তিমূলক গানের আসর বসে মাঝে মাঝেই । আড়ানীতে বেশ কিছু সুনাম ধন্য যাত্রা শিল্পী রয়েছে ।  গোচর মহল্লায় ইদের পরের দিন স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে যাত্রা পালা অনুষ্ঠিত হয় ।  আড়ানীর সনাতন ধর্মী, মুসলিম সুখে দুঃখে একই সাথে কাঁদে হাসে । আড়ানীর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের সহিত  পবিত্র ইদ , মাহে রমজান , শবে বরাত, শবে মেরাজ , শবে কদর পালন করে থাকে । বিশেষ করে শীত কালে পবিত্র কোরআন মাহফিল বা ইসলামী জালসা নতুন ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশেষ উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে । বলা যায় বারো মাসে তের পার্বণের উৎসবের রঙে সাজে আড়ানী । সনাতন ধর্মীয় রীতিতে শারদীয় দূর্গা উৎসব, দীপাবলি, শ্যামা পূজা, শিব রাত্রী উৎসব, সরস্বতী পূজা, ধর্মসভা, জন্মাষ্টমী , রথযাত্রা প্রভৃতি পূজা,আচার অনুষ্ঠান ধূমধাম করে পালিত হয়ে থাকে । তুলনামূলক ভাবে এখানে  বিভিন্ন ফল সহজলভ্য , তাই জামাই ষষ্ঠীতে আয়োজনের তালিকাটা দীর্ঘ । ভাই ফোটাতে ঘরে ঘরে আনন্দের ধারা বয়ে যায় । ভাইয়ের কপালে ফোটা ও হাতে রাখি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করে । বড়াল নদীর ধার হতে আড়ানীর বিভিন্ন যায়গায় ঢাকের তালে হাজরা নৃত্য হয় । যা ছোট বড় সকলের মন কাড়ে ।
আড়ানীর সাহিত্য জগতে অনন্য নাম স্বর্গীয় মনীন্দ্র চন্দ্র শাহা। তাঁর তমাল তলার হাট গ্রন্থটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ৭,১০। স্বর্গীয় বাবু প্রভাষ চন্দ্র লাহেড়ি ‘আমার বিপ্লবী জীবন’ গ্রন্থ রচনা করেন ৬। এছাড়া বর্তমানে মোঃ মাউন বিন মোমতাজ , মোঃ হাবিবুর রহমান টপি সহ আরো অনেকে এ জগতে সরব রয়েছেন । মৃত আদম মোঃ ছইর উদ্দীন প্রামানিক অসংখ্য বানী এবং গান রচনা করে গেছেন । ছইর উদ্দীন প্রামানিক বলেন ৮:
                                          যে যত বলো বাজে কথা
                                    হয়না যেন বেশি তিতা ।
                             হিন্দু মুসলিম আছে একতা
                     বিশ্ব জানে মোদের সততা।

উত্তরবঙ্গের ক্রীড়ার জগতে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র  হিসাবে পরিচিতি ছিল আড়ানী। ফুটবল , ক্রিকেট, কাবাডি, দাবা , ভলিবল, ক্যারাম এক কথায় প্রচলিত সকল খেলায় ছিল সমান বিচরণ ।আড়ানীর সর্বসাধারণ বরাবরই ক্রীড়াপ্রেমী । ক্রীড়া ও সাংস্কৃতির উৎকর্ষতা সাধনে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল । তবে এক্ষেত্রে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আড়ানী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চক্রের নাম ও অবদান  সর্বাগ্রে স্থান পায় । এলাকা বাসী আহসানুল আসলাম স্বপন , আব্দুস সাত্তার, মৃণাল ত্রিবেদী রাজা প্রমুখ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে । সংস্কার, উদ্যোম, ও তারুণ্যের প্রতীক ছিল আড়ানী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চক্র । তারা ১৯৮০-১৯৮৫ সালের মধ্যে হকি টিম গঠন করে অনুশীলন শুরু করেছিল । তৎকালীন পেক্ষাপটে এহেন সাহসী পদক্ষেপ সবাইকে অবাক করতে বাধ্য । আড়ানীতে কোন স্টেডিয়াম নেই সত্য , তবে কানায় কানায় দর্শক পরিপূর্ণ আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ তো আছে । স্বর্গীয় সুকুমার মহোদয়ের ধারা বিবরনীতে দর্শকের মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে যেত। স্থানীয় সহ দেশ বিদেশের অনেক খেলোয়াড় আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের প্রশংসা করেছেন ।
সুনামধন্য শিক্ষক, সরকারী উচ্চ পদস্থ আমলা, প্রধান প্রকৌশলী, ডাক্তার, ব্যবসায়ী সহ সকল পেশায় আড়ানীর মেধাবীরা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন । এক্ষেত্রে মোঃ শফিকুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব ), মরহুম মোজ্জামেল হক (শিক্ষক) , মোঃ আফতাব  উদ্দীন (প্রধান প্রকৌশলী অব:) , মরহুম ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান  , মরহুম ডাঃ মোঃ আজাহার হোসেন , বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ মোজাম্মেল হক ও মোঃ রুহুল আমিন কাজল , প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । আড়ানীর  রাজনীতি ও সমাজ সেবায় জনাব  আলহাজ্ব মোঃ শাহ্‌রিয়ার আলম (মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ,পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়), মরহুম আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল আজিজ ( সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) প্রমুখের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য ।  আড়ানীতে কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি ,স্বর্ণকার, নরসুন্দর, কাঠমিস্ত্রী‌ প্রভৃতি পেশাজীবী এখনো টিকে আছে । মোমিনপুর কারিগর পাড়ায় এখনো তাঁতের গামছা ও কাপড় বুনানোর শব্দ কানে আসে  । আড়ানী পূর্বপাড়ার প্রতিমা শিল্পীরা প্রতিমা তৈরীতে পারদর্শী । বিশেষ করে দূর্গা ও স্বরস্বতী পূজার  দুই মাস পূর্বে থেকেই চলতে থাকে প্রতিমা তৈরীর ধুম । খড়, মাটি , কাঠ , রঙ প্রভৃতি দিয়ে তৈরী হয় প্রতিমা , ভক্তি ও ভালোবাসার ছোঁয়ায় প্রতিমা হয় সুন্দরতর , কেড়ে নেয় সবার মন । আড়ানী পালপাড়ায় মৃৎশিল্পীদের বাস । তারা মাটির বাসন , ফুলদানি,  খেলনা তৈরী করে হাট বাজারে বিক্রয় করে । শাহাপুরে বাঁশ, বেত, কঞ্চি দিয়ে তৈরী হয় ডালি, ঢাকি, পলো ইত্যাদি । আড়ানীতে নামকরা স্বর্ণের কারিগর আছেন । তারা নিপূণ হাতে স্বর্ণালঙ্কার তৈরী করেন । ডিজিটাল ব্যানার ও আর্টের স্বর্ণযুগ চললেও আড়ানীর চিত্রশিল্পীর সুনাম রয়েছে ।  এছাড়া আড়ানীতে চিত্রশিল্পী , নক্সি কাঁথা, পাটি ও পাখার কারিগর এখনো দেখা যায় ।
আড়ানীর সর্বসাধারণ দানশীল, এজন্য এখানে ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহজেই প্রতিষ্ঠা পায় এবং পরিচালিত হয় । আড়ানীর  সর্বসাধারণ দানবীর হিসাবে মরহুম আলহাজ্ব ভোলাই উদ্দীন প্রাং এবং মরহুম এমাদ উদ্দীন আহম্মেদ এর নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে । আড়ানী কেন্দ্রীয় মসজিদ সহ আড়ানীতে ৩০টি মসজিদ , ৪ টি মাদ্রাসা রয়েছে। আড়ানী কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দান সহ ১১ টি স্থানে ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আড়ানী কৃষ্ণ প্রসন্ন  ক্ষ্যাপা বাবার আশ্রম সহ ১২ টি মন্দির রয়েছে। আড়ানীতে ২ টি সরকারি তফশীলি ব্যাংক সহ ১১ টি এন,জি,ও প্রতিষ্ঠান (ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী ) রয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠান আড়ানীর অর্থনীতিতে প্রভূত ভূমিকা রাখছে। আড়ানীতে গণকেন্দ্র পাঠাগার, সঙ্গিত বিদ্যালয়,  আড়ানীতে ২ টি ডিগ্রী কলেজ , ০৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ০৩ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে । আড়ানী ব্যবসা বান্ধব ছোট শহর । এখানে আম, হলুদ ,কচু, আখ ও খেজুরের গুড়, পাট প্রভৃতির পর্যাপ্ত উৎপাদন হয় । আড়ানী হতে সারা দেশে এসকল পন্য রপ্তানি হয়। আম ও হলুদ দেশের গোন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী হাট গুলোর মধ্যে  আড়ানী হাট  ও  রুস্তমপুর পশু হাট উল্লেখ যোগ্য ।
আড়ানীর সর্বসাধারণ সর্বদা স্বপ্ন দেখে আড়ানী হবে পরিচ্ছন্ন নগরী , বড়াল ফিরে পাবে হারানো নাব্যতা। আড়ানীর বিপথগামী যুব সমাজ  নেশা ও মাদকের মায়া ত্যাগ করে বিনোদন , আনন্দ উৎসবে মুখরিত থাকবে এটাই হোক সকলের প্রতাশা । বাংলাদেশের বুকে সার্বিক দিক হতে আদর্শের চিরন্তন প্রতীক হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাক হাজার! বছরের আড়ানী ।

সহায়ক গ্রন্থাবলী ও ব্যক্তিত্ব
১. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (বাংলা একাডেমি) পৃষ্টা নং ৯৮
২. সংসদ বাংলা অভিধান পৃষ্টা নং ৫৮
৩. রনাঙ্গন ৭১ সাতাশটি বৃহৎ যুদ্ধ – পৃষ্ঠা (৯০-৯২)
৪. রাজশাহীর ভাষা আন্দোলন – সম্পাদক ড.তসিকুল ইসলাম
৫. পাগলা বাবার সন্ধানে-শ্রী কমলেন্দু ভট্টাচার্য
৬. জনাব বজলুর রহমান জুয়েল সম্পাদিত আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৫ তম বর্ষপূর্তির স্মরণিকা।
৭. ১১ জুন ২০১৫ সালের দৈনিক সানশাইন পত্রিকার জনাব মোঃ নুরুজ্জামান, বাঘা কর্তৃক আধুনিক জীবনের স্বাদ বাঘার আড়ানী গ্রামে শিরোনামের প্রতিবেদন ।
৮. মোঃ হাবিবুর রহমান টপি সম্পাদিত বাণী সমগ্র পৃষ্টা নং ১৬
৯. https://bn.wikipedia.org/
১০. মান্যবর রাম গোপাল শাহা আড়ানী মহল্লার সুশীল ও সচেতন ব্যক্তি । স্বর্গীয় মনীন্দ্র চন্দ্র শাহা তার দাদু ছিলেন।
১১. জনাব মোঃ ইউনুস- উর রহমান আড়ানী জোতরঘু মহল্লার সুশীল ও সচেতন ব্যক্তি ।
১২.  আড়ানী মাজার ও দরগাহ শরীফের পরিচিতি সাইন বোর্ড

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top