logo
news image

মঙ্গলবার শ্যামা পুজা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামা পুজা (কালী) মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) শুরু হবে। কার্তিক মাসের অমবস্যা তিথিতে সাধারণত শ্যামা পুজা বা কালী পুজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
হিন্দু পূরাণ মতে কালী দেবী দূর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালি নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের মধ্যেই রয়েছে কালীপূজার মহাতœ। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়া সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।
কালী পুজার দিন হিন্দু সম্প্রদায় সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন। এটিকে বলা হয় দীপাবলী।
দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহে বা মন্ডপে মৃন্মময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে বা গৃহে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী বা ধাতুপ্রতিমাতেও কালীপূজা করা হয়। মধ্যরাত্রে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দেবীকে ছিন্নমস্তক সহ বলির পশুর রক্ত, মিষ্টান্ন, অন্ন বা লুচি, মাছ ও মাংস উৎসর্গ করা হয়।
তবে গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কালী শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এই কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে শ্মশানে মহাধুমধামসহ শ্মশানকালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
লালপুরে ৫২৯তম কালী পূজা ও মেলা
ব্যপক নিরাপত্তা, আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নাটোরের লালপুরের বুধপাড়া কালী মন্দিরে সাত দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী কালী মেলা মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশের হাজারো দর্শকের পদচারণায় জমে উঠা সপ্তাহব্যাপী মিলন মেলা  প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
জানা যায়, ৫২৯ বছর আগে নবাবী আমলে বর্গীয় হাঙ্গামার সময় বর্গীদের অত্যাচারে ভারতের মুর্শিদবাদ জেলার বহরমপুরের খাগড়া থেকে ৬০ ঘর কংস বণিক লালপুরের বুধপাড়ায় এসে বসতি স্থাপন করে। হিন্দু সম্প্রদায়ের এই কাঁসা শিল্পীরা কালী পূজা অর্চনার জন্য খড়ের ঘরে একটি মন্দির নির্মান করে। বাংলা ১৩৩২ সালে জনৈক লাল কেনেডিয়ার স্ত্রী জানকী বাঈ-এর আর্থিক অনুদানে বর্তমান পাকা মন্দিরটি নির্মিত হয়। প্রতি বছর কার্তিক মাসে এখানে কালী পূজা ও সপ্তাহ ব্যাপী মেলা চলে। প্রবীণরা জানান, বছর পঞ্চাশেক আগেও এই মেলা মাসাধিক ধরে চলতো। প্রায় দেড়শ বছর আগে কালী মন্দিরের পাশেই স্থাপিত হয় গোবিন্দ মন্দির। বাবু পূণ্য চন্দ্র দাস এই মন্দিরের নামে প্রায় দেড়শ বিঘা জমি দান করেন। বর্তমানে কালী মন্দির ও গোবিন্দ মন্দির চত্ত্বরের আট বিঘা মতো জমি ছাড়া সব বেদখল হয়ে গেছে। মন্দিরে সকাল-সন্ধা আরাধনা, পূজা অর্চনা, হরিবাসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সারা বছর অনুষ্ঠিত হয়। পাক-ভারত উপ মহাদেশের প্রাচীনতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম এই মন্দিরে পূজা চলাকালীন প্রতিদিন শতাধিক পাঁঠা বলি হয়ে থাকে।
প্রতিমা নির্মাতা লালপুরের জোতদৈবকীর শ্রী সুকুমার চন্দ্র হালদার জানান, কালী মূর্তিটির উচ্চতা ৩৩ ফুট। এটিই দেশের সর্ব বৃহৎ কালী প্রতিমা। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি এই প্রতিমা নির্মানের কাজ করছেন। সময় লাগে ১২ দিন। তার সাথে প্রতিমা নির্মানে সহায়তা করেছেন তার ছেলে সনজিত হালদার।
মেলা ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মুকুল কুমার সাহা ও আনন্দ মোহন সাহা জানান, সুষ্ঠভাবে পূজা উদযাপনে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।  


সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top