logo
news image

বাঁশের চাইতে কঞ্চি বড়

তাজউদ্দিন মোঃ ইমতিয়াজ আলী।  । 
আমরা অনেকেই আমাদের যোগ্যতার চাইতে অনেক ক্ষেত্রেই বেশী বেশী অনেক কিছুই করে থাকি বা বলে থাকি বা লিখে থাকি।
একজনের কথায় মন্তব্য করার যোগ্যতা না থাকলেও মন্তব্যও করে থাকি।
একবারও আমরা ভাবি না এ সকল ক্ষেত্রে আমাদের বেশী বেশী করার যোগ্যতা আছে কিনা বা উচিত কিনা বা মানায় কিনা?  
কোথাও হয়তো কেউ কিছু বললো বা কেউ কিছু করলো বা কেউ কিছু লিখলো,
সেই বলা বা করা বা লিখা নিয়ে আমরা অনেকে অনেক প্রকার আলোচনা বা সমালোচনা করতে পারি বা বাহাবা দিতে পারি বা পছন্দ জানাতে পারি বা অপছন্দের হলে বুদ্ধিমানদের মতো  কোন কিছু না লিখে বা না জানিয়ে এড়িয়েও যেতে পারি।   
আমাদের পারিবারিক বা শিক্ষাগত বা কর্মক্ষেত্রের যোগ্যতা যদি নাও থাকে তবুও কি আমরা অন্যের সেই কাজ বা কথা বা লিখা নিয়ে খারাপ কোন মন্তব্য করতে পারি?   
আগরতলার সমালোচনায় যদি আমরা চৌকির তলার কেউ হয়ে আমাদের যোগ্যতার চাইতেও বেশী মন্তব্য করে ফেলি তাহলে তা কি  অন্যদের কাছে হাস্যকর মন্তব্য বলে মনে হবে না?  
আমার যোগ্যতার চাইতেও অনেক বড় কাজ আমি করেছি বলে কখনোই কি নিজেকে ধিক্কার দিতে মন চাইবে না?
যদি ধিক্কার সম্পর্কে আমার বোঝার ক্ষমতা ও যোগ্যতা নাও থাকে তাহলে অন্যের কিছু বলা, করা বা লিখা সম্পর্কে আলোচনা-
সমালোচনা বা মন্তব্য করার কি কোন যোগ্যতা আমার আছে???
বিষয়টি কি কখনও আমি বা আমরা ভেবে দেখেছি???
আর যদি প্রকৃত পক্ষেই আমার বা আমাদের সেই যোগ্যতা না থাকে তাহলে এসব ক্ষেত্রে আমার বা আমাদের করা মন্তব্য  অন্যের নিকট হাস্যকর ও সমালোচনায় রূপ নিবে না??  
যে কোন বিষয়ে কিছু বলার বা কিছু করার আগে যারা ভেবে বা চিন্তা করে কিছু বলে বা কিছু করে তারাই ত বুদ্ধিমান।
আমাদের ওজন বা যোগ্যতা অনুযায়ীই আমাদেরকে কাজ করতে হবে বা কথা বলতে হবে এটা যেমন সত্য ও সঠিক, ঠিক তেমনি এটাও সত্য ও সঠিক যে, আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের সংবাদ না নেওয়ায় শ্রেয়।
আমি বেসরকারী একটি কলেজে এক অজপাড়া গাঁয়ে চাকুরী করি,
আমি যদি নিজেকে আধুনিকতার সর্ব শীর্য মডেল ও জ্ঞানের আলোক ভান্ডার বা খনি মনে করি বা নিজেকে একজন  ডিসি বা সচিবের মতো মনে করি এবং সেই অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় কথা বলি এবং সেই অনুযায়ী কাজও করি তাহলে সেটা অন্যদের নিকট কেমন লাগবে তা কিন্তু আমি অবশ্য অবশ্যই জানি।
আর জানি জন্যই আমি আমার যোগ্যতার দৌরাত্ব  সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল।
সে অনুযায়ীই আমার চলাফেরা ও কাজ কর্মও আমাকে করতে হয়।
ঠিক তেমনি অন্যদেরও উচিত তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বা কর্মরত পদের বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে চলাফেরা করা বা আলোচনা-সমালোচনায় অংশগ্রহন করা বা অন্যের কথা বা কাজ বা লিখা সম্পর্কে মন্তব্য করা ( অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব ছাড়া, বন্ধু-বান্ধব যা ইচ্ছা একে অপরকে লিখতেই পারে)
উদাহরণ- একজন মেশিন অপারেটরের যোগ্যতা অনুযায়ী তিনি যেমন কখনও তার দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বা তার কোম্পানীর প্লান্ট ম্যানেজারেরে কোন কথা নিয়ে বা কাজ নিয়ে বা কোন লিখা নিয়ে কোন কথা বলার বা কোন মন্তব্য করার কোন যোগ্যতায় রাখেননা, ঠিক তেমনি কোন সম জাতীয় বা তদুর্ধ কোন পদধারীর কোন কথা বা কাজ বা  লিখা নিয়েও তিনি আলোচনা- সমালোচনা বা মন্তব্য করারও যোগ্যতা রাখেন না।
যদি তারপরেও তিনি তা করেন তাহলে অবশ্যই তা তার শিষ্টাচারের বর্হিভূত বলেই বিবেচিত হয়।
যেমন বিবেচিত হয় বাঁশের চাইতে কঞ্চি বড় হলে বা বার হাত বাংগীর তের হাত বিচি হওয়ার ক্ষেত্রে।
ইদানিং ইন্টারনেটের বদৌলতে আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার করছি, যেখানে অনেকেই অনেক লিখা বা ছবি পোষ্টও দিয়ে থাকি।
কারও পোষ্ট অনেকের পছন্দ হওয়ায় কেউ পছন্দ জানায়, কেউ মন্তব্য জানায় কেউ বা দু'টোয় জানায়।
আবার কারো বা কাহাদের অপছন্দ হলে কোনটায় না জানিয়ে তিনি বা তাঁহারা এড়িয়েও যান বা কেউ কেউ অপছন্দের ক্ষেত্রে খারাপ কিছু মন্তব্যও লিখে ফেলেন।
এ সকল ক্ষেত্রে মানুষের করা মন্তব্য দেখলেই বোঝা যায় মন্তব্যকারীর পারিবারিক অবস্থা,  পারিবারিক  শিক্ষা,  শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মরত পদের গুরুত্ব সম্পর্কে।
সর্ব ক্ষেত্রে সুন্দর ও সুখময় জীবন উপভোগ করার জন্য আমার, আপনার ও সকলেরই উচিত নিজের ওজন, সামাজিক অবস্থান ও যোগ্যতা অনুযায়ী চলা, কথা বলা ও লিখা। নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী অন্যদের সম্পর্কে আলোচনা ও সমালোচনায় অংশ নেওয়া এবং অন্যের যে কোন কথায় কিংবা কাজে কিংবা লিখা সম্পর্কে ভাল ভাবে জেনে ও অর্থ বুঝে নিজের সার্বিক যোগ্যতা অনুযায়ী সে কথা বা কাজ বা লিখা সম্পর্কে মন্তব্য করা।
আমাদের কর্ম ক্ষেত্রে, সামাজিক ক্ষেত্রে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এমন কি পারিবারিক ক্ষেত্রেও চলমান এই কাজগুলির প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদেরকেই সচেতন হয়ে পরিবর্তন আনা একান্ত প্রয়োজন।
না হলে একজন মুরগি ব্যবসায়ী বা খামারীও ভুলে যাবেন তাঁর মুরগির ওজন কিভাবে করলে সে লাভবান  হবেন?
একজন শিক্ষকও ভুলে যাবেন কিভাবে একজন ছাত্রকে শিষ্টাচার শিখাতে হয়??
একজন পরিবারের কর্তাও ভুলে যাবেন কিভাবে তাঁর সন্তানকে অমানুষ হতে না দিয়ে মানুষ বানাতে হয়???
পুনশ্চ, লিখতে মন চাওয়ায় এবং লিখতে ভাল লাগায় এই লিখা। কাউকে ছোট করতে বা কারো মনে কষ্ট দেওয়ার জন্য এ লিখা নয়। তারপরও কারো খারাপ লাগলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ।

* তাজউদ্দিন মোঃ ইমতিয়াজ আলী: অধ্যক্ষ, বিহার টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, বগুড়া।  

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Blog single photo
November 4, 2018

ইমতিয়াজ সোহেল

ধন্যবাদ আপনাকে প্রকাশক ও সম্পাদকঃ অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গ, লালপুর, নাটোর

(1) Reply
Blog single photo
November 4, 2018

ইমতিয়াজ সোহেল

ধন্যবাদ আপনাকে মাননীয় প্রকাশক ও সম্পাদক অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গ, লালপুর, নাটোর ফেসবুকের আমার লেখাটা আপনার দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করার জন্য।

(0) Reply
Top