logo
news image

নাটোরে প্রকৃতির আদলে পুজা মন্ডপ

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।  
পাহাড়, পর্বত, গাছ-পালা নদী-নালা কি নাই, সব কিছুই যেন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুজা মন্ডপে। গাছ পালা কেটে প্রকৃতিতে যেন বিরুপ প্রভাব না ফেলা হয় সেই সচেতনতা থেকেই এবারের দূর্গা পুজার মন্ডপ সাজিয়েছে নাটোরের শহরের বৈকালী সংঘ। আপনি পুজা মন্ডপে প্রবেশ করলেই মনের মধ্যে অনুভুত হবে কোন এক প্রকৃতির স্বর্গ রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। শহরের যতগুলো পুজা মন্ডপ রয়েছে তার এবারে এই মন্ডপটি সাড়া ছেলেছে সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্ডব পরিদর্শন করছে ভক্তরা।
প্রতি বছরই পুজা মানে নতুনত্ব। আর্কষনীয় আর আকৃষ্ট করতে প্রাণ পন চেস্টা করে যান মন্ডপ কমিটিগুলো। এবার নাটোরের দুটি পুজা মন্ডপ দৃষ্টি কাড়ছে দর্শনাথীদের। পাহাড় পর্বত আর প্রকৃতির মধ্যে দেবি দুর্গার আর্বিভাব এবং সোনালী আশ পাট ও পাট কাঠি দিয়ে তৈরীকৃত মন্ডপ দেখতে প্রতিদিনই উপচে পড়া ভীড় করছে দর্শনার্থীরা।
জানা যায়, নাটোর শহরের বৈকালী সংঘ। প্রতিবছরই দৃস্টি নন্দন গেট আর আলোক সজ্জা বাড়িয়ে দেয় দুর্গাপুজার আনন্দ। তবে এবার তারা পুজা মন্ডপ সাজিয়ে নতুন আংঙ্গীকে। পাহাড় পর্বত, গাছপালা আর প্রকৃতির মধ্যে দেবি দুর্গার আগমন ঘটিয়েছে তারা। শহরের যে কয়টি পুজা মন্ডপ রয়েছে তার মধ্যে দর্শনার্থিদের দৃস্টি কাড়ছে এই মন্ডপটি। কৈলাশ আর স্বর্গের মধ্যে দেবি দুর্গার আবিভাব দেখে অভিভুত দর্শনার্থীরা।
সিংড়া থেকে শহরের পুজা দেখতে এসেছেন শিখা রানী। শহরের যে কয়টি মন্ডপ ঘুরে দেখিয়েছেন তার কাছে সব চেয়ে ভাল লেগেছে বৈকালী সংঘর্ষের পুজা মন্ডপটি।
তিনি বলেন, এই মন্ডপে প্রবেশ করার পর থেকেই মনে হয়েছে যেন স্বর্গের মধ্যে প্রবেশ করেছি। আকাশে মেঘের ভেলার সাথে প্রতিমা, যেমনটি টেলিভিশনে দেখা যায়, ঠিক তেমনই দেখতি পাচ্ছি এখানে। এক কথায় মন ছুঁয়ে গেছে পুজা মন্ডপটি।
শহরের কানাইখালি এলাকার মিতালী ঘোষ বলেন, বান্ধবীদের সাথে বিভিন্ন পুজা মন্ডপ ঘুরে দেখেছি। আমি ভারতের অনেক মন্ডপে পুজা দেখেছি। কিন্তু এখানে যা দেখলাম এক কথায় অসাধারণ। চারপাশে প্রকৃতি তার মধ্যে দূর্গা অসাধারণ লাগছে।
দীর্ঘ ৬মাস ধরে দৃস্টি নন্দন এই পুজা মন্ডব সাজিয়েছেন শহরের লালবাজারের শিল্পী ভবতোষ কর্মকার বাবলু। জলবায়ু পরিবর্তনে প্রকৃতিতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরুপ প্রতিক্রিয়া রোধে গাছপালা এবং প্রকৃতির বিকল্প কিছু নাই, এই চিন্তা করেই এবারের মন্ডপকে সাজসজ্জা করা হয়েছে বলে জানান শিল্পী ভবতোষ কর্মকার বাবলু।
বৈকালী সংঘ পুজা উদযাপন কমিটির সদস্য প্রদীপ আগরওয়াল বলেন, প্রতি বছর আমরা বিভিন্ন আইডিয়া থেকে দূর্গা পুজা মন্ডপ সাজসজ্জা করে থাকি। এবার আমরা প্রকৃতির আদলে পুজা মন্ডপ তৈরী করার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘ দিন ধরে শিল্পীরা এটি তৈরী করেছেন।
তিনি বলেন,দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশ উষ্ণায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা নদী-নালা, পাহার পর্বত সহ প্রকৃতির সব অপরুপ দৃশ্য নিয়ে মন্ডপ তৈরী করা হয়েছে। প্রকৃতিকে ভালবাসলে প্রকৃতি যে বিরুপ মনোভাব দেখায় না সেটাই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আগামী দিনে আরো নতুন কিছু আইডিয়া নিয়ে আবারও পুজা মন্ডপ তৈরী করা হবে।
এদিকে, নাটোর শহরের কান্দিভিটার আরেকটি মন্ডপ অন্নপুর্ন্না সংঘ। গত বছর শামুক দিয়ে পুজা মন্ডপ বানিয়ে দৃষ্টি কাড়ে ভক্তদের। এবার মন্ডবে দেশীয় কৃষি পণ্য সোনালী আঁশ এবং পাট কাঠি ব্যবহার করে সাজসজ্জা করা হয়েছে মন্ডপটি। দেশীয় সোনালী আঁশের ব্যবহার এবং চাষ দিন দিন কমে গেলেও এই ধরনের উদ্যোগ কৃষি পণ্য পাট চাষকে উৎসাহিত করবে আশা আয়োজকদের।
অন্নপুর্ন্না সংঘ পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রসাদ তালুকদার বাচ্চা, বলেন, প্রতিবছরই পুজাকে আর্কষনীয় করতে বিপুল অর্থ ব্যায় করে কমিটি গুলো। গত বছর আমরা দেশীয় শামুখ দিয়ে পুরো পুজা মন্ডপ তৈরী করেছি। যেটি জেলার মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। এবার আমরা দেশীয় কৃষি পণ্য পাটের আঁশ এবং পাট কাঠি দিয়ে পুজা মন্ডপ সাজিয়েছি। যে নির্মান করতে অন্তত ৬মাস সময় লেগেছে। ইতোমধ্যে আমাদের এই মন্ডপটি দেখতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ভীড় সামলাতে কমিটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগামী বছর আবারো নতুন কোন আইডিয়া নিয়ে মহাসমারহে শুরু হবে পুজা এটাই প্রত্যাশা রাখছি।

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top