logo
news image

সফল দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য সম্পর্কের কয়েকটি মৌলিক ধারণা

মনোবিজ্ঞানীরা কয়েকবছর ধরে গবেষণা করে সফল দীর্ঘমেয়াদি দাম্পত্য সম্পর্কের কয়েকটি মৌলিক ধারণা জড়ো করেছেন। তাদের গবেষণার সবচেয়ে বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণগুলো এখানে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

১. একসঙ্গে না থাকলেও আপনারা পরস্পরের কথা ভাবেন। ২০০৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ তার সঙ্গী বা সঙ্গীনির সম্পর্কে যত বেশি ভাবেন ততই তারা পরস্পরের প্রতি আরো বেশি ভালোবাসা অনুভব করেন। একই গবেষণায় ৪০০ বিবাহিত যুগলের ওপর টানা পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, কেউ তার সঙ্গী বা সঙ্গীনির ব্যাপারে বেশি বেশি ভাবার মানে হলো তাদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি শক্তিশালি ভালোবাসার অনুভুতি ক্রিয়াশীল। বিশেষ করে কোনো দম্পতির পুরুষ সদস্যটির তার সঙ্গীনির কথা বারবার স্মরণ করার অর্থ হলো স্ত্রীর প্রতি তার গভীর অনুরাগ রয়েছে।

২. পরস্পরের ভালো সংবাদে ইতিবাচকভাবে সাঁড়া দেন কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক কতটা শক্তিশালি তার একটি বড় লিটমাস টেস্ট হলো ওই দম্পতির সদস্যরা পরস্পরের ভালো কোনো সংবাদ শুনে কতটা উচ্ছাস প্রকাশ করেন। পরস্পরের ভালো কোনো খবর শুনে উচ্ছাস প্রকাশের মাত্রা থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে সুখের মাত্রাও নির্ণয় করা সম্ভব। সাইকোলজি টুডে ব্লগের একটি পোস্টে বলা হয়, একজন স্বামী কর্মস্থলে তার স্ত্রীর প্রমোশনের খবর শুনে চারভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারেন:
• সক্রিয়-গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া; স্বামীটি গভীর প্রেরণাদায়ক মন্তব্য করে স্ত্রীকে আরো উৎসাহিত করবেন: “খুবই ভালো খবর, হানি! আমি জানতাম তুমি এটা পারবে। কারণ তুমি অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছো।”
• নিষ্ক্রিয়-গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া; শুধু একটি উষ্ণ হাঁসি এবং একটি সরল বাক্য- “ভালো খবর”।
• সক্রিয়-ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া; এমন একটি বিবৃতি যা ঘটনাটিকে হেয় করবে- “তার মানে তোমাকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে কাজ করতে হবে? তুমি কি এতো চাপ সামলাতে পারবে?
• সবশেষে, নিষ্ক্রিয় ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া; বস্তুত সুখবরটিকে অগ্রাহ্য করা হবে: “তাই নাকি? ভালো, তুমি বিশ্বাসই করতে পারবে না বাড়ি ফেরার সময় আজ আমার সঙ্গে কী ঘটেছে!” গবেষণায় দেখা গেছে, সক্রিয়-গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকারী স্বামীটিই দাম্পত্য সম্পর্কে সবচেয়ে সুখী মানুষ।

৩. নিজেদের বন্ধুদের সঙ্গে আলাদাভাবে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পান। গত কয়েকদশক ধরে মানুষেরা তাদের জীবন সঙ্গী বা সঙ্গীনির ওপর অতিরিক্ত চাহিদা চাপিয়ে দিতে শুরু করেছেন। এখন আমরা আমাদের সঙ্গী বা সঙ্গীনিদেরকে শুধু অর্থনৈতিক অংশীদার, রক্ষাকর্তা এবং সহচর হিসেবেই প্রত্যাশা করি না বরং আমরা এখন তাদেরকে ব্যক্তিগত পরিপূর্ণতার সহায়ক হিসেবেও পেতে চাই। মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ হলো, দাম্পত্য সম্পর্কে সুখী হতে চাইলে সঙ্গী বা সঙ্গীনির ওপর নিজের সব ধরনের অস্তিত্বগত চাহিদাগুলো পূরণের দায় চাপিয়ে দেবেন না। তার চেয়ে বরং নিজের কোনো সখ পূরণ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং কাজে মগ্ন হয়ে থাকুন।

৪. দুজনের রসবোধ একইরকম মনোবিজ্ঞানী এবং ডেটিং সাইট ই হারমোনির প্রতিষ্ঠাতা নেইল ক্লার্ক ওয়ারেন বলেন, রোমান্টিক সম্পর্কে রসবোধ একটি ‘সামাজিক লুব্রিকেন্ট’ হিসেবে কাজ করে।

৫. ঘরের কাজ ভাগাভাগি করে করেন এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২% প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ বলেছেন, ঘরকণ্যার কাজ ভাগাভাগি করে সম্পন্ন করার মধ্যদিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ককেও আরো বেশি সফল করে তোলা সম্ভব। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরাই এখনো ঘরের বেশিরভাগ কাজ করেন। যদিও পুরুষরা এখন আগের চেয়ে ঘরের কাজে একটু বেশিই মনোযোগী হয়েছেন।

৬. দুজনে একত্রে নতুন নতুন জিনিস করার চেষ্টা করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব যুগল একসঙ্গে নতুন নতুন এবং উত্তেজনাপুর্ণ তৎপরতায় লিপ্ত হন তারা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সুখী হন।

৭. সম্পর্কে কখনো চরম মন্দাভাব দেখা দেয়না। গবেষকরা সম্প্রতি প্রায় ৪০০ যুগলের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে পেয়েছেন, বিবাহিত যুগলরা সাধারণত সম্পর্কের ক্ষেত্রে চার ধরনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতায় আবদ্ধ থাকেন। নাটকীয়, সংঘর্ষ-সংকুল, সামাজিকভাবে সংশ্লিষ্ট এবং সঙ্গী বা সঙ্গীনির প্রতি অংশীদারিত্বমূলক মনোভাবাপন্ন। গবেষণায় দেখা গেছে, নাটকীয় মনোভাবাপন্ন যুগলের সদস্যরা সময়ের পরিক্রমায় তাদের সঙ্গী বা সঙ্গীনির প্রতি প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে অনেক বেশি দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতায় ভোগেন। সংঘর্ষ-সংকুল যুগলের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হন। এবং পরস্পরের প্রতি প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে অসংখ্য সংক্ষিপ্তকালীন অস্থিরতায় ভোগেন। সামাজিকভাবে সংশ্লিষ্ট যুগলরা সধারণত তখনই অস্থিরতায় ভোগেন যখন তাদের বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক বিষয়ে তাদের নিজেদের ধারণা বদলে দেন। সঙ্গী বা সঙ্গীনির প্রতি অংশীদারিত্বমূলক মনোভাবাপন্ন যুগলরা পরস্পরকে ইতিবাচকভাবে দেখে থাকেন। এরা শুধু তখনই অস্থিরতায় ভোগেন যখন এরা নিজেরা একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে গুনগত মানসম্পন্ন সময় কাটাতে ব্যর্থ হন। এই ধরনের যুগলরাই দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আন্তরিক হয়ে থাকেন। আর নাটকীয় মনোভাবাপন্ন যুগলদের বিচ্ছেদ ঘটে বেশি।

৮. ঝগড়া-বিবাদ মেটানোর উপায় জানেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যেসব যুগল ঝগড়া-বিবাদের পর পুনরায় সম্পর্ক জোড়া লাগাতে পারেন সহজেই তারাই দাম্পত্য সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি সফল হয়ে থাকেন। ভালো দাম্পত্য সম্পর্কের একটি সধারণ বৈশিষ্ট হলো দম্পতিদের কেউ একজন যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তখন অপরজন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এবং আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করেন।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top