logo
news image

গানে-কথায় জব্বার-স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।  ।    
আবদুল জব্বারের গাওয়া ‘আমি প্রদীপের মতো রাত জেগে জেগে’ গানটি গেয়ে শোনান শিল্পীর কন্যা জেসমিন জব্বারআবদুল জব্বারের গাওয়া ‘আমি প্রদীপের মতো রাত জেগে জেগে’ গানটি গেয়ে শোনান শিল্পীর কন্যা জেসমিন জব্বারস্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে গাওয়া তাঁর গান মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা জুগিয়েছে। যাঁর শব্দের স্বাজাত্যবোধে উদ্দীপ্ত হয়ে দেশপ্রেম হৃদয়ে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধে নাম লিখিয়েছিলেন হাজারো যুবক। স্বর্ণকণ্ঠে যিনি উচ্চারণ করেছিলেন ‘ওরে নীল দরিয়া’, সেই মহান শিল্পী আবদুল জব্বার অসীম মরণ সাগরের যাত্রী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সবার প্রিয় এ শিল্পীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের ৩০ আগস্ট তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শিল্পীকে ভালোবেসে গানে গানে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। কথামালায় উঠে আসে নানা স্মৃতিকথা।
বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে শিল্পী আবদুল জব্বারকে নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর এক দিন আগে শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ম্যাজিশিয়ান’স ফেডারেশন অব বাংলাদেশ। এতে আলোচনায় অংশ নেন শিল্পী আবদুল জব্বারের স্ত্রী হালিমা জব্বার, তাঁর কন্যা জেসমিন জব্বার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, কবি কাজী রোজী, শিল্পী খুরশিদ আলম, স্বাধীন বাংলা বেতার কর্মী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম এ রব। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ রানা। আয়োজনের শুরুতেই শিল্পী আবদুল জব্বারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘আমরা শিল্পীরা সারা জীবন আপ্রাণ চেষ্টা করি দর্শক-শ্রোতাদের কিছু দিতে। কিন্তু তার পরও অনেক সময় শিল্পীদের কথা স্মরণে থাকে না। গানে গানে আবদুল জব্বারকে আমরা চিরকাল মনে রাখব, এই প্রত্যাশা করি।’
শিল্পী আবদুল জব্বারকে স্মরণ করে বক্তারা বলেন, দেশমাতৃকার জন্য ১৯৭১ সালে শিল্পী আবদুল জব্বার স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে যোগ দিয়েছিলেন। শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভারতের নানা শহরে ঘুরে তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন। গান গেয়ে তিনি ১২ লাখ রুপি সংগ্রহ করেছিলেন, যার পুরোটাই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন। আবদুল জব্বারের গান মৃত্যুঞ্জয়ী উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, শিল্পী নেই, কিন্তু আজও তাঁর গান মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তাঁর গাওয়া ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ অনুপ্রাণিত করে আজও।
অনুষ্ঠানে বাবাকে স্মরণ করে আবদুল জব্বারের গাওয়া ‘আমি প্রদীপের মতো রাত জেগে জেগে’ গানটি গেয়ে শোনান শিল্পীর কন্যা জেসমিন জব্বার। শিল্পী আবদুল জব্বারের গাওয়া গান নিয়ে সাংস্কৃতিক পর্বে আবিদা রহমান গেয়ে শোনান ‘এখানে আমার পদ্মা-মেঘনা’ ও ‘জীবন আঁধারে পেয়েছি তোমারে’ শীর্ষক দুটি গান। এ ছাড়াও জি এম জাকির হোসেন শোনান ‘আমি তো বন্ধু মাতাল নই’ ও ‘তারাভরা রাতে’। মীর শরিফ হাসান লেনিন শোনান ‘ও রে নীল দরিয়া’, হিমাদ্রি রায় শোনান ‘তুমি কি দেখেছো কভু’। আবদুল্লাহ হেল রাফি তালুকাদার শোনান ‘পিচঢালা এই পথটারে’, ‘বন্ধু তুমি শত্রু তুমি’। ‘তুমি সাত সাগরের ওপার হতে’ গানটি দ্বৈতকণ্ঠে গেয়ে শোনান আব্দুল্লাহ হেল রাফি তালুকাদার ও আবিদা রহমান। সরদার হীরক রাজা গেয়ে শোনান ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘মুজিব বাইয়া যাও’।
আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘ও রে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘একবুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’, ‘পিচঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’, ‘বন্ধু তুমি শত্রু তুমি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী গানের শিল্পী তিনি। সংগীতে অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’ এবং ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পেয়েছেন তিনি।

কমেন্ট করুন

...

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Top